Meta Trader- জ্বালানি তেলের লাফিয়ে বাড়া দামের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতির নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার (ইয়েল্ড) বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় পতন ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আবারও বাড়াতে পারে—এমন অনুমানের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ডলার শক্তিশালী হলে কমে যায় বিশ্ববাজারে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত এই ধাতুটির দাম।
এর আগের সেশনগুলোতে দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ দাম স্পর্শ করলেও বৃহস্পতিবার স্পট গোল্ডের (তৎক্ষণাৎ বিক্রিযোগ্য সোনা) দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,০৪৯.৫৬ ডলারে নেমে আসে। একই দিনে সোনার ফিউচার মার্কেট বা ভবিষ্যৎ চুক্তিতে দাম ২.৪ শতাংশ কমে দাঁড়ায় প্রতি আউন্স ৪,০৫২.৪০ ডলারে। অথচ তার আগের দুই দিনে (মঙ্গলবার ও বুধবার) নিরাপদ এই ধাতুর দর প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
গত সপ্তাহে প্রতি আউন্স ৪,০০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা বারবার স্পর্শ করার পর কারিগরি ক্রয়ের (টেকনিক্যাল বাইং) ওপর ভর করে গত দুদিনে সোনার বাজারে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।
বিনিয়োগ বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ট্রেড নেশনের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক ডেভিড মরিসন বলেন, “প্রশ্ন হচ্ছে এটি কি কেবল সাময়িক মুনাফা তুলে নেওয়ার (প্রফিট টেকিং) ঘটনা, নাকি সোনার দর আরও নিচে নামার ইঙ্গিত? প্রতি আউন্স ৪,০৮০ ডলারের আশপাশে কিছুটা সাপোর্ট বা ভিত্তি রয়েছে। সোনা যদি এই জায়গায় টিকে থাকতে পারে, তবে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বাজারে বড় ধরনের তেজ আনতে হলে দর দৃঢ়তার সঙ্গে ৪,২০০ ডলার অতিক্রম করতে হবে। আর মার্কিন ডলার শক্তিশালী থাকা অবস্থায় সোনা সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারবে কি না, তা নিয়ে বড় সংশয় রয়েছে।”
সংঘাত ছড়ানোর আশঙ্কায় হুথি হামলা
সোনার দামের এই ওঠানামার নেপথ্যে রয়েছে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি। গত ২৬ মে-র পর প্রথমবারের মতো বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার প্রাইস প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথিরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দায় স্বীকার করার পর বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। চলতি সপ্তাহে সৌদি বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে অবরোধ ঘোষণার পর হুথিদের এটাই প্রথম হামলা।
এই হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। শিপিং ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের (Kpler) প্রাক্কলন অনুযায়ী, সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলের দৈনিক ১৯ লাখ ব্যারেল শোধন ক্ষমতা হুথিদের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যবর্তী পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে নিশ্চিত জাহাজ চলাচল প্রায় ৭৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ফলে পারস্য উপসাগরে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আটকা পড়ছে।
ইতোমধ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) টানা ১২তম রাতের মতো ইরানে বোমা হামলা চালিয়েছে। তাদের নৌ অবরোধের মাধ্যমে ইরানি বন্দরে প্রবেশ বা বের হতে যাওয়া নয়টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং একটি জাহাজ অকেজো করে দেওয়া হয়েছে। এর জবাবে তেহরানও প্রতিবেশী কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সকালে হুথিদের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, হুথিরা গত এক বছর “বেশ দায়িত্বশীল আচরণ” করলেও এখন আবার দুটি সৌদি জাহাজে হামলা চালিয়ে সংঘাত শুরু করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, “তারা যদি আবারও এটি করে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকেই দায়ী করবে; কারণ হুথিরা ইরানের প্রক্সি বা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে। ফলে ইরান এবং হুথি—উভয়ের ওপরই কঠোর সামরিক শাস্তি নেমে আসবে। আমি হুথিদের ওপর অত্যন্ত হতাশ, কারণ তারা এ পর্যন্ত অত্যন্ত পেশাদার ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছিল।”
সুদের হার ও মূল্যস্ফীতির টানাপোড়েন
জ্বালানি তেলের এই আকাশচুম্বী দাম আবারও বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির ভয় ছড়িয়ে দিয়েছে। নীতি নির্ধারণী বৈঠকের কারণে চলতি সপ্তাহে মার্কিন ফেড তাদের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বন্ধ রাখলেও আগামী ২৯ জুলাই নীতিগত সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে সিএমই ফেডওয়াচ টুলের (CME FedWatch Tool) তথ্য অনুযায়ী, সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা এক সপ্তাহ আগের ৮৮% থেকে কমে ৬৬%-এ নেমে এসেছে। অপরদিকে সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট (০.২৫%) বাড়ার সম্ভাবনা এক সপ্তাহ আগের ১২% থেকে একলাফে ৩৪%-এ উঠে এসেছে।
সাধারণত উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে সোনা বা ধাতুর মতো কোনো লভ্যাংশ না দেওয়া (Non-yielding) সম্পদের আবেদন কমে যায়। উচ্চ সুদের হার ডলারকে আরও শক্তিশালী করে তোলে, যা বিদেশি ক্রেতাদের জন্য ডলারের মাধ্যমে কেনা সোনাকে আরও ব্যয়বহুল করে তোলে এবং সোনার ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
তবে ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান এএনজেড (ANZ)-এর বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, চড়া সুদের হারের পূর্বাভাস সত্ত্বেও অনেক বিনিয়োগকারী নতুন করে সোনা কেনা শুরু করেছেন। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, সোনার সাময়িক দরপতন নতুন বিক্রেতা তৈরি না করে বরং অনেককে কেনার সুযোগ করে দিচ্ছে। তারা আরও জানান, ফিউচার মার্কেটে অ-বাণিজ্যিক নিট লং পজিশন (যেখানে ভবিষ্যতে দাম বাড়ার বাজিতে বিনিয়োগ করা হয়) গত জানুয়ারি মাসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। পাশাপাশি গোল্ড-ব্যাকড এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডগুলোতে (ETF) নতুন করে মূলধন আসা শুরু হয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় শেয়ারবাজারের চরম অস্থিরতা থেকে নিজেদের সম্পদ রক্ষা করতে অনেক বিনিয়োগকারী এখনও সোনার ওপরই ভরসা রাখছেন।
ব্রেন্ট ক্রুড ১০০ ডলার ছাড়ানোয় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা: শক্তিশালী ডলারের ধাক্কায় সোনার দামে ২ শতাংশ পতন
জ্বালানি তেলের লাফিয়ে বাড়া দামের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতির নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার (ইয়েল্ড) বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় পতন ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আবারও বাড়াতে পারে—এমন অনুমানের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ডলার শক্তিশালী হলে কমে যায় বিশ্ববাজারে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত এই ধাতুটির দাম।
এর আগের সেশনগুলোতে দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ দাম স্পর্শ করলেও বৃহস্পতিবার স্পট গোল্ডের (তৎক্ষণাৎ বিক্রিযোগ্য সোনা) দাম ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,০৪৯.৫৬ ডলারে নেমে আসে। একই দিনে সোনার ফিউচার মার্কেট বা ভবিষ্যৎ চুক্তিতে দাম ২.৪ শতাংশ কমে দাঁড়ায় প্রতি আউন্স ৪,০৫২.৪০ ডলারে। অথচ তার আগের দুই দিনে (মঙ্গলবার ও বুধবার) নিরাপদ এই ধাতুর দর প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
গত সপ্তাহে প্রতি আউন্স ৪,০০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা বারবার স্পর্শ করার পর কারিগরি ক্রয়ের (টেকনিক্যাল বাইং) ওপর ভর করে গত দুদিনে সোনার বাজারে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।
বিনিয়োগ বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ট্রেড নেশনের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক ডেভিড মরিসন বলেন, “প্রশ্ন হচ্ছে এটি কি কেবল সাময়িক মুনাফা তুলে নেওয়ার (প্রফিট টেকিং) ঘটনা, নাকি সোনার দর আরও নিচে নামার ইঙ্গিত? প্রতি আউন্স ৪,০৮০ ডলারের আশপাশে কিছুটা সাপোর্ট বা ভিত্তি রয়েছে। সোনা যদি এই জায়গায় টিকে থাকতে পারে, তবে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বাজারে বড় ধরনের তেজ আনতে হলে দর দৃঢ়তার সঙ্গে ৪,২০০ ডলার অতিক্রম করতে হবে। আর মার্কিন ডলার শক্তিশালী থাকা অবস্থায় সোনা সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারবে কি না, তা নিয়ে বড় সংশয় রয়েছে।”
সংঘাত ছড়ানোর আশঙ্কায় হুথি হামলা
সোনার দামের এই ওঠানামার নেপথ্যে রয়েছে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি। গত ২৬ মে-র পর প্রথমবারের মতো বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার প্রাইস প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথিরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দায় স্বীকার করার পর বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। চলতি সপ্তাহে সৌদি বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে অবরোধ ঘোষণার পর হুথিদের এটাই প্রথম হামলা।
এই হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। শিপিং ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের (Kpler) প্রাক্কলন অনুযায়ী, সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলের দৈনিক ১৯ লাখ ব্যারেল শোধন ক্ষমতা হুথিদের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যবর্তী পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে নিশ্চিত জাহাজ চলাচল প্রায় ৭৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ফলে পারস্য উপসাগরে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আটকা পড়ছে।
ইতোমধ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) টানা ১২তম রাতের মতো ইরানে বোমা হামলা চালিয়েছে। তাদের নৌ অবরোধের মাধ্যমে ইরানি বন্দরে প্রবেশ বা বের হতে যাওয়া নয়টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং একটি জাহাজ অকেজো করে দেওয়া হয়েছে। এর জবাবে তেহরানও প্রতিবেশী কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সকালে হুথিদের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, হুথিরা গত এক বছর “বেশ দায়িত্বশীল আচরণ” করলেও এখন আবার দুটি সৌদি জাহাজে হামলা চালিয়ে সংঘাত শুরু করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, “তারা যদি আবারও এটি করে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকেই দায়ী করবে; কারণ হুথিরা ইরানের প্রক্সি বা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে। ফলে ইরান এবং হুথি—উভয়ের ওপরই কঠোর সামরিক শাস্তি নেমে আসবে। আমি হুথিদের ওপর অত্যন্ত হতাশ, কারণ তারা এ পর্যন্ত অত্যন্ত পেশাদার ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছিল।”
সুদের হার ও মূল্যস্ফীতির টানাপোড়েন
জ্বালানি তেলের এই আকাশচুম্বী দাম আবারও বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির ভয় ছড়িয়ে দিয়েছে। নীতি নির্ধারণী বৈঠকের কারণে চলতি সপ্তাহে মার্কিন ফেড তাদের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বন্ধ রাখলেও আগামী ২৯ জুলাই নীতিগত সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে সিএমই ফেডওয়াচ টুলের (CME FedWatch Tool) তথ্য অনুযায়ী, সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা এক সপ্তাহ আগের ৮৮% থেকে কমে ৬৬%-এ নেমে এসেছে। অপরদিকে সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট (০.২৫%) বাড়ার সম্ভাবনা এক সপ্তাহ আগের ১২% থেকে একলাফে ৩৪%-এ উঠে এসেছে।
সাধারণত উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে সোনা বা ধাতুর মতো কোনো লভ্যাংশ না দেওয়া (Non-yielding) সম্পদের আবেদন কমে যায়। উচ্চ সুদের হার ডলারকে আরও শক্তিশালী করে তোলে, যা বিদেশি ক্রেতাদের জন্য ডলারের মাধ্যমে কেনা সোনাকে আরও ব্যয়বহুল করে তোলে এবং সোনার ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
তবে ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান এএনজেড (ANZ)-এর বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, চড়া সুদের হারের পূর্বাভাস সত্ত্বেও অনেক বিনিয়োগকারী নতুন করে সোনা কেনা শুরু করেছেন। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, সোনার সাময়িক দরপতন নতুন বিক্রেতা তৈরি না করে বরং অনেককে কেনার সুযোগ করে দিচ্ছে। তারা আরও জানান, ফিউচার মার্কেটে অ-বাণিজ্যিক নিট লং পজিশন (যেখানে ভবিষ্যতে দাম বাড়ার বাজিতে বিনিয়োগ করা হয়) গত জানুয়ারি মাসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। পাশাপাশি গোল্ড-ব্যাকড এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডগুলোতে (ETF) নতুন করে মূলধন আসা শুরু হয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় শেয়ারবাজারের চরম অস্থিরতা থেকে নিজেদের সম্পদ রক্ষা করতে অনেক বিনিয়োগকারী এখনও সোনার ওপরই ভরসা রাখছেন।