Meta Trader.bd– জুনের ট্রাফিক ডেটা প্রকাশ এবং চলতি ২০২৬ সালের পুরো আর্থিক লক্ষ্যমাত্রার ওপর প্রধান নির্বাহী (CEO) স্টিফান শুল্টের দৃঢ় পুনর্ব্যক্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে জার্মানির বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রাপোর্ট (Fraport)। এই ইতিবাচক খবরের জেরে সোমবার প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম ২.৬% বৃদ্ধি পেয়ে ৭১.১৫ ইউরোতে পৌঁছেছে, যা গত সপ্তাহের বড় ধরনের লোকসান থেকে বাজারকে দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করেছে। এর আগে গত ৮ জুলাই শেয়ারটির দর প্রায় ৬% হ্রাস পেয়েছিল; ফলে আজকের তথ্য প্রকাশের আগে এটি বাজারে অতিরিক্ত বিক্রির চাপে (Oversold) ছিল।
প্রকাশিত ট্রাফিক রিপোর্টে অবশ্য মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। গত জুন মাসে ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দর প্রায় ৫৭ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১.৭% কম। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান সংঘাতের কারণে ভ্রমণ চাহিদা ও বুকিংয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব এবং লুফথানসা (Lufthansa) এয়ারলাইন্সের ধর্মঘটের কারণে আসন সক্ষমতা কমে যাওয়াকে এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ফ্রাপোর্ট পরিচালিত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নেটওয়ার্কের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ফ্রাপোর্টের সব বিমানবন্দর মিলিয়ে মোট যাত্রী সংখ্যা ৭৭.৭ মিলিয়নে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিকে হাতিয়ার করেই ফ্রাপোর্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বার্ষিক আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক মনোভাবও ফ্রাপোর্টের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। সম্প্রতি ব্যাংক অব আমেরিকা (BofA) ইউরোপের অবকাঠামো খাতের শীর্ষ সাতটি ‘বাই-রেটেড’ (শেয়ার কেনার পরামর্শ) শেয়ারের তালিকায় ফ্রাপোর্টকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ব্যাংকটির মতে, বহু-বছর মেয়াদী মূলধনী ব্যয় কর্মসূচি এবং মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাজস্ব প্রবাহ থেকে ফ্রাপোর্ট দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হবে।
তবে এর বিপরীতে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ‘এমডব্লিউবি রিসার্চ’ (mwb research) আজ ফ্রাপোর্টের শেয়ারের ওপর তাদের ‘সেল’ (শেয়ার বিক্রির) সুপারিশ পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং এর লক্ষ্যমাত্রা (Price Target) নির্ধারণ করেছে ৬২ ইউরো। তাদের যুক্তি, প্রথমার্ধের দুর্বল যাত্রী সংখ্যা ফ্রাপোর্টের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে, বিশেষ করে নতুন চালু হওয়া ‘টার্মিনাল ৩’-এর স্থায়ী পরিচালন ব্যয়ের (Fixed Cost) চাপের কারণে।
সামগ্রিকভাবে, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা বজায় রাখার ঘোষণা, অতিরিক্ত বিক্রির চাপ থেকে শেয়ারের আংশিক পুনরুদ্ধার এবং বিশ্ব পুঁজিবাজারের সামগ্রিক ইতিবাচক পরিবেশের (যেখানে প্রধান মার্কিন সূচকগুলোও আজ ঊর্ধ্বমুখী) যৌথ প্রভাবে ফ্রাপোর্টের শেয়ারে এই সুবাতাস দেখা গেছে। তবে আগামী আগস্টে দ্বিতীয় প্রান্তিকের (Q2) আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরের যাত্রী প্রবৃদ্ধির বিপরীতে ক্রমবর্ধমান স্থায়ী ব্যয়ের ভারসাম্য নিয়ে বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যকার মূল বিতর্কটি এখনো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।