Meta Trader News- জাপানের রাষ্ট্রীয় পেনশন ফান্ডের বরাদ্দ নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মন্তব্যের পর টোকিওর সম্ভাব্য বাজার হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় মঙ্গলবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েন কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। অন্যদিকে, আজ দিনের শেষভাগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে অধিকাংশ এশীয় মুদ্রাই একটি সংকীর্ণ সীমার মধ্যে লেনদেন করছে।
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর ক্রিস্টোফার ওয়ালারের আসন্ন বক্তব্য এবং জুনের ভোক্তা মূল্য সূচকের (CPI) অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা থাকায় বৈশ্বিক বাজারে ডলারের অবস্থান শক্তিশালী রয়েছে। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে, যা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিকে আরও উস্কে দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, মার্কিন প্রশাসন ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ পুনর্বহাল করবে এবং মার্কিন সুরক্ষায় হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখা নিশ্চিত করবে। এই ঘোষণার পর অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
আজকের সেশনের শুরুতে কিছুটা দরপতনের পর USD/JPY জুটি বর্তমানে ১৬২.৩-এর কাছাকাছি অবস্থান করছে। অপরদিকে, মার্কিন মূল্যস্ফীতির উপাত্ত প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে থাকায় ইউএস ডলার ইনডেক্স (DXY) ১০১.২-এর কাছাকাছি লেনদেন হচ্ছে।
স্পটলাইটে জাপানি ইয়েন
জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামার সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর জাপানি ইয়েন বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। গত সপ্তাহের বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি জানান, জাপানি ইয়েন-ভিত্তিক সম্পদকে আরও আকর্ষণীয় করার অংশ হিসেবে প্রয়োজনবোধে ‘গভর্নমেন্ট পেনশন ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’-এর (GPIF) পোর্টফোলিও পুনর্মূল্যায়ন করা হতে পারে।
কাতায়ামা দেশটির কর-সুবিধাপ্রাপ্ত ‘নিসা’ (NISA) বিনিয়োগ কর্মসূচির আওতায় জাপানি সরকারি বন্ড (JGB) রাখার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও করেছেন। এর মাধ্যমে মূলত জাপানের পারিবারিক সঞ্চয়গুলোকে অভ্যন্তরীণ বাজারে ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এই মন্তব্যগুলোর পর বাজারে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, জাপানি কর্তৃপক্ষ চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকা ইয়েনের দরপতন নিয়ে ক্রমশ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে।
ব্যাংক অব আমেরিকার বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েনের প্রতি বিনিয়োগকারীদের মনোভাব ২০২২ সালের পর বর্তমানে সবচেয়ে নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি, ‘কমোডিটি ফিউচারস ট্রেডিং কমিশন’ (CFTC)-এর তথ্য অনুযায়ী, লিভারেজড ফান্ডগুলো ২০০৭ সালের পর বর্তমানে ইয়েনের ক্ষেত্রে তাদের সবচেয়ে বড় ‘নেট শর্ট’ (দরপতনের পক্ষে বাজি ধরা) পজিশন ধরে রেখেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, কাতায়ামার সাম্প্রতিক বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নীতিনির্ধারকরা হয়তো ইয়েন এবং সরকারি বন্ড—উভয় ক্ষেত্রেই ধৈর্যের চরম সীমায় পৌঁছে গেছেন। ফলে দেশীয় বাজারকে চাঙ্গা করতে শিগগিরই আরও কঠোর পদক্ষেপের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
অর্থনৈতিক উপাত্তের প্রভাবে মিশ্র অবস্থানে আঞ্চলিক মুদ্রাগুলো
আজ দিনের শেষভাগে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উপাত্ত প্রকাশের আগে আঞ্চলিক মুদ্রাগুলোর বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে।
কোরিয়ান সম্পদে সোমবারের তীব্র পতনের ধাক্কা সামলে USD/KRW জুটি আজ প্রায় ০.৪% হ্রাস পেয়ে ১,৪৯২-এর কাছাকাছি নেমে এসেছে। অন্যদিকে, এআই-সম্পর্কিত প্রযুক্তি খাত থেকে বিদেশি তহবিল প্রত্যাহারের ধাক্কা কাটিয়ে উঠে তাইওয়ানের মুদ্রা স্থিতিশীল হওয়ায় USD/TWD জুটি ০.২% হ্রাস পেয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় জুলাই মাসে ‘ওয়েস্টপ্যাক ভোক্তা আস্থা সূচক’ ৪.১% বৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক ‘ন্যাব’ (NAB) জরিপে ব্যবসায়িক আস্থা বৃদ্ধির চিত্র উঠে এলেও USD/AUD জুটিতে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ভোক্তা আস্থা সূচক এখনও নিরপেক্ষ ১০০ স্তরের নিচে থাকায় বোঝা যাচ্ছে যে, সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলেও সাধারণ ভোক্তারা এখনও বেশ সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
চীনের প্রত্যাশার চেয়েও শক্তিশালী বাণিজ্য উপাত্ত প্রকাশের পর চীনা ইউয়ান প্রধানত স্থিতিশীল রয়েছে। দেশটির রপ্তানি বার্ষিক ভিত্তিতে ২৭.০% এবং আমদানি ৩৬.০% বৃদ্ধি পাওয়ায় বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২৫.৬ বিলিয়ন ডলারে। তবে আসন্ন ঋণ ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত পরিসংখ্যানের দিকে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকায় USD/CNY এবং অফশোর USD/CNH জোড়ের ক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি।
অন্যদিকে, ভারতের পাইকারি মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং বাণিজ্য উপাত্ত প্রকাশের আগে USD/INR জুটি প্রায় ০.৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া, সিঙ্গাপুরের প্রাথমিক দ্বিতীয় প্রান্তিকের জিডিপি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো আসায় দেশটির অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে; ফলে সেশনের শুরুতে USD/SGD জুটির বাজার দর প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।