Meta Trader- সাম্প্রতিক শেয়ারবাজারের তীব্র অস্থিরতার পর স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্স-ভিত্তিক উচ্চ লিভারেজযুক্ত এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ETF) নিয়ন্ত্রণে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। নিয়ন্ত্রকদের আশঙ্কা, এসব পণ্য বাজারের ওঠানামাকে আরও তীব্র করে তুলছে।
ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস কমিশন (FSC)-এর চেয়ারম্যান লি ইওগ-ওন জানান, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অর্থ মন্ত্রণালয়, ব্যাংক অব কোরিয়া এবং ফিন্যান্সিয়াল সুপারভাইজরি সার্ভিস (FSS)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন ব্যবস্থা প্রণয়নের কাজ চলছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও এখনো নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
বাজারে বড় ধস
দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে নাটকীয় মোড় দেখা গেছে। চলতি বছরে দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে জুন মাসে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানো কসপি (KOSPI) সূচক বর্তমানে তীব্র দরপতনের কারণে বিয়ার মার্কেটে প্রবেশ করেছে।
বৃহস্পতিবার কসপি এক পর্যায়ে ৭.৬ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়। একই সময়ে স্যামসাং ইলেকট্রনিকস এবং এসকে হাইনিক্সের শেয়ারের দাম ৯ শতাংশেরও বেশি কমে যায়।
লিভারেজড ETF নিয়ে উদ্বেগ
মাত্র দুই মাস আগে চালু হওয়া এসব লিভারেজড ETF এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট শেয়ারের দৈনিক রিটার্নের দ্বিগুণ মুনাফা বা ক্ষতি প্রতিফলিত হয়।
তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিদিন লেনদেন শেষে ETF-গুলোর রিব্যালান্সিং (Rebalancing) কার্যক্রম স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের মতো বৃহৎ সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানির শেয়ারে অতিরিক্ত কেনাবেচার চাপ সৃষ্টি করছে, যা মূল্য ওঠানামাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
কী ধরনের পদক্ষেপ বিবেচনায় রয়েছে?
নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো যেসব পদক্ষেপ বিবেচনা করছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- ETF-তে বিনিয়োগের ন্যূনতম সীমা বর্তমান ১ কোটি ওন থেকে বাড়ানো।
- দিনের শেষ মুহূর্তে একসঙ্গে রিব্যালান্সিং না করে পুরো ট্রেডিং সেশনে লেনদেন ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে বাজারে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
খুচরা বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ
এই ETF-গুলো অল্প সময়েই খুচরা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, স্যামসাং ইলেকট্রনিকস, এসকে হাইনিক্স এবং এই দুই প্রতিষ্ঠানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা লিভারেজড ETF মিলিয়ে বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার ৪.১ ট্রিলিয়ন ডলারের শেয়ারবাজারের মোট লেনদেনের ৭০ শতাংশেরও বেশি অংশ দখল করছে।
এর ফলে বাজারে অতিরিক্ত কেন্দ্রীভবন (Market Concentration) এবং প্রাতিষ্ঠানিক অস্থিরতা (Systemic Volatility) নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ETF লেনদেন স্থগিত হবে?
ETF-গুলোর লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে FSC চেয়ারম্যান লি বলেন, বিষয়টি সবদিক বিবেচনা করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্টের উদ্বেগ
বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং বলেন, ঐতিহাসিক উত্থানের পর দেশটির শেয়ারবাজার ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। তিনি বাজার নিয়ন্ত্রকদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
বিশ্লেষকদের মত
বিশ্লেষকদের ধারণা, কর্তৃপক্ষ সরাসরি ETF নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে বিনিয়োগকারী সুরক্ষা জোরদারের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেবে।
সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- বিনিয়োগকারীর উপযুক্ততা যাচাই (Suitability Requirement) আরও কঠোর করা।
- বাধ্যতামূলক বিনিয়োগকারী শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ।
- উচ্চ ঝুঁকির পণ্যে বিনিয়োগের আগে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা চালু করা।
বৈশ্বিক প্রভাবও রয়েছে
এদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতের অতিমূল্যায়ন নিয়ে উদ্বেগ বিশ্বজুড়ে সেমিকন্ডাক্টর খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে রাতারাতি দরপতনের প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারেও। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কোরিয়ান শেয়ার থেকে বিনিয়োগ কমিয়ে নেওয়ায় বাজারে বিক্রির চাপ আরও বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার কসপি সূচক ৫ শতাংশের বেশি পতনের পর বাজারে অতিরিক্ত অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে ‘সাইডকার’ (Sidecar) নামে পরিচিত স্বয়ংক্রিয় লেনদেন-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (Trade Curb) সক্রিয় করা হয়।