Meta Trader- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে নিরাপদে বিনিয়োগের অন্বেষণ শুরু হয়েছে। এর প্রভাবে সকালের লেনদেনে মার্কিন ডলারের দাম সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে সুদের হার উচ্চপর্যায়ে বজায় রাখতে পারে—এমন প্রত্যাশা এবং মার্কিন সম্পদে বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে ডলারের দর বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
জর্ডানে মার্কিন সামরিক কর্মী নিহতের ঘটনায় মার্কিন বাহিনী টানা নবম রাতের মতো ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে। এর জেরে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারে উঠলে মার্কিন ডলার আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। বিশ্বের ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মান সূচক (ডলার ইনডেক্স) সকাল ১০:২৭ মিনিটে (EST) ১০০.৭৬ পয়েন্টে স্থিতিশীল ছিল।
ডলারের এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে চীনের সাথে বাণিজ্য সংক্রান্ত অস্থিরতাও প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চীন হস্তক্ষেপ করেছিল বলে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবির পর থেকে দুই দেশের মধ্যে ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ভারসাম্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্য বিরোধও ইউরোর চাহিদায় মন্দা তৈরি করেছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে টানা তিন দিনের দরবৃদ্ধির পর সূচকটি কিছুটা স্তিমিত হয়েছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি কিছুটা হ্রাসের উপাত্ত প্রকাশের পর মার্কিন ট্রেজারি ইয়েল্ড কমে যাওয়া ডলারের ওপর কিছুটা নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করে।
ইউরো ও পাউন্ডের অবস্থান
আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যেও যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ব্রিটিশ পাউন্ড সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। লেবার পার্টির নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ ও তার মন্ত্রিসভা ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়ায় লন্ডনের আর্থিক বাজারে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শবানা মাহমুদকে পরবর্তী অর্থমন্ত্রী (চ্যান্সেলর অব দ্য এক্সচেঞ্জার) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে—এমন খবর বাজারকে নতুন আস্থা জুগিয়েছে। আসন্ন শরৎকালীন বাজেটের আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে একজন অর্থ-বাস্তববাদী নেতার আগমনকে বিনিয়োগকারীরা ইতিবাচকভাবে দেখছেন, যা স্টার্লিংকে একটি শক্ত ভিত্তি দিয়েছে।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) নীতিনির্ধারণী বৈঠকের আগে ইউরোর মান প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ইসিবি সুদের হার ২.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখবে, তবে আগামী শরতের নীতি নিয়ে তাদের কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বাভাস ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা
বৈদেশিক মুদ্রার বাজার এখন আগামী সপ্তাহের যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) নীতিনির্ধারণী বৈঠকের দিকে নজর রাখছে। ফেড ফান্ডস ফিউচার্সের উপাত্ত অনুযায়ী, ২৯ জুলাইয়ের বৈঠকে নীতি নির্ধারকরা সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা ৮৫.৬ শতাংশ। তবে দীর্ঘমেয়াদে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা এখনো কম। কারণ ক্লিভল্যান্ড ফেডের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাক সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, মূল মূল্যস্ফীতি বজায় থাকলে নীতি আরো কঠোর করা হতে পারে।
এদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পরিবর্তন মুদ্রা প্রবাহে কিছুটা নতুন মোড় এনেছে। টানা নবম রাতের হামলার পর তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা হতে পারে। এতে তাৎক্ষণিক সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কা কিছুটা প্রশমিত হলে অপরিশোধিত তেলের দাম সকালের প্রাথমিক বৃদ্ধি হারিয়ে কিছুটা নিম্নমুখী হয়।
মার্কিন-ইরান সংঘাতের বিস্তারিত প্রতিবেদন দেখে নিন
সংঘাতময় পরিস্থিতিতে মার্কিন নীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আরো ভালোভাবে অনুধাবন করতে ভিডিওটি সহায়তা করবে।