Meta Trader- মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের নতুন বিস্তার এবং অন্যদিকে আঞ্চলিক কূটনৈতিক অগ্রগতির খবরের টেনোপোড়েনের মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের দাম এক সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি অবস্থান করছে। তবে ডলারের দাপটের মধ্যেও দর বেড়েছে ব্রিটিশ পাউন্ডের এবং স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে ইউরো।
ছয়টি প্রধান বৈশ্বিক মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মান নির্ধারণকারী ‘ইউএস ডলার ইনডেক্স’ ১০০.৯৩ পয়েন্টে স্থিতিশীল রয়েছে। এর আগের সেশনে সূচকটি গত ১৫ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছায়।
ইউএস ট্রেজারি বন্ডের উর্ধ্বমুখী রিটার্ন (ইয়েল্ড) ডলারের শক্ত অবস্থানকে প্রতিনিয়ত সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছে। মুদ্রাবাজারে ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড ৪.৫৯ শতাংশে এবং ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের ইয়েল্ড ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি আবার বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে চড়া রাখতে বাধ্য করতে পারে—এমন আশঙ্কায় বন্ড মার্কেট বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
আইএনজি (ING)-এর ফরেক্স স্ট্র্যাটেজিস্ট ফ্রান্সেসকো পেসোল মন্তব্য করেন, “সামরিক উত্তেজনার মতো ঝুঁকিগুলোকে বাজার যেভাবে কিছুটা হালকাভাবে নিচ্ছে, তাতে ডলারের বিনিময় হার আরও বাড়ার ঝুঁকিই বেশি।”
এদিকে ইউরোপীয় দেশগুলোর মুদ্রার মধ্যে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে ব্রিটিশ পাউন্ড (স্টার্লিং)। আন্তর্জাতিক বাজারে পাউন্ডের দর ০.১ শতাংশ বেড়েছে।
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সরকারের কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিদ্যমান রাজস্ব নীতি মেনে চলার বিষয়ে প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর পাউন্ড বাড়তি শক্তি পায়। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ মজুরি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের আগে নতুন প্রশাসনের এমন বাস্তবমুখী আর্থিক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
অন্যদিকে, আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) মুদ্রানীতি বিষয়ক বৈঠককে সামনে রেখে ইউরোর দর সামান্য বেড়ে ১.১৪২০ ডলারে পৌঁছেছে এবং একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বজায় রয়েছে।
ফ্রাঙ্কফুর্টের এ বৈঠকে নীতি নির্ধারকরা মূল সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে জ্বালানি তেলের দর বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তার ফলে ইসিবি প্রধান ক্রিস্টিন লাগার্দে এখনই সুদের হার কমানোর কোনো ইঙ্গিত দেবেন না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা ইরানি কমান্ড সেন্টার ও সমুদ্রসীমার অবকাঠামো লক্ষ্য করে টানা নবম রাতের মতো সামরিক হামলা সম্পন্ন করেছে।
উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের ওপর নতুন করে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান রুটগুলোতে নতুন করে হুমকি তৈরি হয়েছে।
হুতিদের ব্লকেড এবং অন্যদিকে তেহরানকে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়ার খবরের মধ্যে অপরিশোধিত তেলের বাজার ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চ দর স্পর্শ করে কিছুটা কমেছে। তেলের বাজারে এ সাময়িক দরপতন ডলারের সেফ-হেভেন (নিরাপদ বিনিয়োগ) হিসেবে বাড়ার প্রবণতাকে কিছুটা দমিয়ে রেখেছে, যার ফলে ইউরোপীয় মুদ্রাগুলো নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে।
ব্যাংকগুলোর সম্ভাব্য পদক্ষেপের দিকেও সতর্ক নজর রাখছেন ব্যবসায়ীরা। চলতি সপ্তাহে ইসিবির বৈঠকের পর আগামী সপ্তাহে সবার নজর থাকবে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি সংক্রান্ত বৈঠকের দিকে। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতায় তৈরি মূল্যস্ফীতি পর্যবেক্ষণ করতে মার্কিন নীতি নির্ধারকরা সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।