Meta Trader- উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত হ্রাসে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে।
মঙ্গলবার ইস্টার্ন টাইম (ET) সকাল ০৪:৫৩ নাগাদ (জিএমটি ০৮:৫৩) আন্তর্জাতিক তেলের বাজারসূচক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর ফিউচার প্রাইস ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৮.৮০ ডলারে নেমে এসেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (WTI) ক্রুডের দামও ০.৫ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮২.৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগের কার্যদিবসে দুটি সূচকই উর্ধ্বমুখী ছিল। সে সময় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৩ শতাংশ বেড়ে ৮৯.২২ ডলারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্কের দাম ০.৯ শতাংশ বেড়ে ৮৩.২৩ ডলারে পৌঁছেছিল। সপ্তাহান্তে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাময়িকভাবে প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলার অতিক্রম করলেও পরবর্তী সময়ে তা কিছুটা থিতু হয়।
সহিংসতা নতুন করে বৃদ্ধি পেলেও মধ্যস্থতাকারীরা একটি কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো এবং গত জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করতে তাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও অন্যান্য নেতারা ইসলামাবাদে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনির সঙ্গে আলোচনা করছেন। অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এখনও আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
তবে ইতিবাচক আলোচনার পরও মঙ্গলবার হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত ছিল। ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর ‘ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’ (UKMTO)-এর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP) জানিয়েছে, ওমানের কাছে হরমুজ প্রণালীতে একটি জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে নাবিকরা জাহাজটি ত্যাগ করতে বাধ্য হন। ইরানের ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ইরানে টানা ১০ দিনের মতো হামলা সম্পন্ন করেছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ করার সক্ষমতা ধ্বংস করতেই ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এ হামলা চালানো হয়। বান্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ এবং কোনারকে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা তেল বাজারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেললেও, এই যুদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, তারা সৌদি মালিকানাধীন জাহাজগুলোর ওপর অবরোধ আরোপের পরিকল্পনা করছে। এর ফলে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযোগকারী ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য, এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খনিজ তেল পরিবাহিত হয়।
ডাচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘আইএনজি’ (ING)-র বিশ্লেষকরা এক পর্যালোচনা নোটে জানিয়েছেন, “সৌদি জাহাজে অবরোধ কার্যকর হলে জাহাজগুলোকে সুয়েজ খাল ও আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। তবে হুতিদের এই অবরোধ কতটা সফল হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। যদিও এই পরিস্থিতি নিশ্চিতভাবেই জাহাজের বিমা খরচ বাড়িয়ে দেবে। তবে আজকের বাজার পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, এই অবরোধ সফল হওয়ার বিষয়ে বাজার এখনও পুরোপুরি আশ্বস্ত নয়।”
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় আটকে থাকলেও মুনাফা বাড়ার হার সীমিত রয়েছে। কারণ অতীতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাগুলো বিশ্বব্যাপী দীর্ঘমেয়াদি তেল সরবরাহ বিঘ্নিত না করেই প্রশমিত হয়েছিল—বাজার এবারও সেই প্রত্যাশাই করছে।
এদিকে, বিশ্বের বৃহত্তম তেল ব্যবহারকারী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি চাহিদার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে বিনিয়োগকারীরা ‘আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট’ (API)-এর সাপ্তাহিক মজুদ সম্পর্কিত তথ্যের দিকে নজর রাখছেন। এছাড়া বুধবার মার্কিন সরকারের ‘এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (EIA) তাদের অফিশিয়াল ডেটা প্রকাশ করবে।