Meta Trader- ইউকে-র মূল্যস্ফীতি কমার সাম্প্রতিক তথ্য এবং আঞ্চলিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়টি পর্যালোচনার মধ্যে বুধবার মার্কিন ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল ছিল। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের চড়া দাম এবং মধ্যপ্রাচ্যে অব্যাহত উত্তেজনার মধ্যেই ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ড তাদের সম্প্রতি অর্জিত অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
আজ মার্কিন ডলার সূচক (ইউএস ডলার ইনডেক্স) ১০১.০৪-এর কাছাকাছি স্থির ছিল। রাতারাতি সংক্ষিপ্ত উত্থানে সূচকটি ১০১ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর এতে কিছুটা বিরতি দেখা যায়। মার্কিন ট্র্রেজারি বন্ডের চড়া ইয়িল্ড (মুনাফা) এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে গ্রিনব্যাক নামে পরিচিত ডলারের অবস্থান শক্ত হলেও, ইউরোপীয় কারেন্সি ডেস্কগুলোতে স্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ বা ‘সেফ-হেভেন’ হিসেবে ডলারের সার্বিক চাহিদা নিয়ন্ত্রণে ছিল।
যুক্তরাজ্যের অফিসিয়াল ডেটা অনুযায়ী, মে মাসের ২.৮ শতাংশের তুলনায় জুনে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) মূল্যস্ফীতি কমে ২.৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এই তথ্য প্রকাশের পর ব্রিটিশ পাউন্ড ১.৩৪৪৮ ডলারের কাছাকাছি শক্ত অবস্থানে টিকে ছিল।
মূল্যস্ফীতির এই নিম্নগতি নতুন দায়িত্ব নেওয়া প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের জন্য প্রাথমিক অর্থনৈতিক স্বস্তি হিসেবে এসেছে। ট্রেডারদের মতে, এই সূচকটি বাজারকে এ সংকেতই দেয় যে, ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড তড়িঘড়ি সুদের হার না কমিয়ে বরং এক ধরণের মেপে মেপে আর্থিক ছাড় নীতি (মনিটারি ইজিং) বজায় রাখবে।
এদিকে, ইউরো গ্রিনব্যাকের বিপরীতে ০.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১.১৪২০ ডলারের কাছাকাছি কেনাবেচা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি) নীতিগত বৈঠকের আগে বিনিয়োগকারীরা তাদের অবস্থান আপাতত সুনির্দিষ্ট রাখছেন।
ফ্রাঙ্কফুর্ট তাদের মূল ঋণের সুদের হার ২.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখবে বলেই ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তেলের বর্ধিত মূল্য ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করতে পারে কি না, সে বিষয়ে ইসিবি প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দের বক্তব্য গভীর পর্যবেক্ষণে রাখবেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
আইএনজি-র (ING) ক্রিস টার্নার বলেন, “সুদের হারের ফারাক এখানে ভূমিকা রেখেছে। তেলের চড়া দাম দেখে বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, ইউএস ফেডারেল রিজার্ভের তুলনায় ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে হয়তো আরও আগ্রাসী পদক্ষেপ নেবে।”
তবে তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের টিম ইসিবি-র পর্যালোচনায় যে বিষয়টি তুলে ধরেছে—আগামীকালের ইসিবি বৈঠক ও সংবাদ সম্মেলনে যে ভাষাই ব্যবহার করা হোক না কেন, বাজারের সুদের হার আরও বাড়ার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ।”
ইউরোপের বাইরে এশিয়ার মুদ্রা বাজারে নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া প্রত্যাশা অনুযায়ীই তাদের বেঞ্চমার্ক সুদের হার ৬.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশ্ববাজারে পণ্যের মূল্য ওঠানামার কারণে আমদানিকৃত মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি কমানো এবং নিজ দেশের মুদ্রার মান স্থিতিশীল রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি।
এই সিদ্ধান্তের পর ইন্দোনেশিয়ান রূপিয়া ডলারের বিপরীতে ০.১ শতাংশ শক্তিশালী হয়েছে। অন্যদিকে জাপানি ইয়েনও ০.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ডলার ১৬২.৮৭-এর কাছাকাছি লেনদেন হলেও মুদ্রাটি এখনও সাম্প্রতিক কয়েক দশকের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির গভীর প্রভাব লক্ষ করা গেছে। মার্কিন বাহিনী টানা ১১তম রাতের মতো ইরানি সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা চালিয়েছে, অন্যদিকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা বাণিজ্যিক জ্বালানি পরিবহনকারী জাহাজে নতুন করে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
সামুদ্রিক বাণিজ্যে এমন ক্রমাগত হুমকির মুখে অপরিশোধিত তেলের দাম চড়া রয়েছে। এতে পরিবহন ও জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি পেয়ে বিশ্বজুড়ে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে এবং বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার কমানোর পথকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।