Meta Trader- মেলবোর্নভিত্তিক অনলাইন ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান পেপারস্টোন (Pepperstone) কেবল স্পেসএক্স (SpaceX)-এর একক চুক্তিতে সীমাবদ্ধ না থেকে তাদের ‘পার্পেচুয়াল সিএফডি’ (Perpetual CFD) সেবার পরিধি ধাতু, শেয়ারবাজার সূচক এবং জ্বালানি খাতে বিস্তৃত করার ঘোষণা দিয়েছে। নির্দিষ্ট মেয়াদ উত্তীর্ণের সময়সীমা ছাড়া রাতদিন ২৪ ঘণ্টা লেনদেনের সুবিধা দিতেই এই নতুন পণ্য বাজারে আনা হয়েছে।
সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ব্রোকারটি জানায়—স্বর্ণ, রূপা, নাসডাক (Nasdaq), এসঅ্যান্ডপি ৫০০ (S&P 500), ডাব্লিউটিআই (WTI) এবং ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের এসব পার্পেচুয়াল চুক্তি পেপারস্টোনের নির্দিষ্ট অধিক্ষেত্রের (Jurisdiction) অনুমোদিত গ্রাহকদের জন্য ইতিমধ্যে চালু করা হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকা এই সেবা সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এটি নিশ্চিত করা হলো।
সাধারণত ‘পার্পেচুয়াল কন্ট্রাক্ট’-এর কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদের তারিখ (Settlement date) থাকে না। মূল বাজারের সাথে এর দামের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সাময়িক ‘ফান্ডিং পেমেন্ট’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। মূলত ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিংয়ে এই ধারার সূচনা ঘটে, যা পরবর্তীতে ডিজিটাল অ্যাসেট লেনদেনের প্রধানতম মাধ্যম হয়ে ওঠে। এখন ঐতিহ্যবাহী সিএফডি (CFD)-এর আওতায় শেয়ার, ধাতু ও পণ্যের (Commodities) ক্ষেত্রেও এই মডেলটি প্রয়োগ করা হচ্ছে।
ধাপে ধাপে বিভিন্ন অধিক্ষেত্রে চালুর উদ্যোগ
পেপারস্টোনের প্রথম পার্পেচুয়াল সিএফডি পণ্য ছিল SPCX.US-PERP, যা মূলত অ্যারোস্পেস কোম্পানি স্পেসএক্সের শেয়ার মূল্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি সিন্থেটিক চুক্তি। এরপর সোনা, রূপা, সূচক ও তেলের চুক্তিগুলো যুক্ত করা হয়।
গ্রাহকদের মধ্যে এর চাহিদা তুলে ধরতে পেপারস্টোন কিছু শিল্প খাতের পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ২০২৫ সালে পার্পেচুয়াল ফিউচার্সের বৈশ্বিক ট্রেডিং ভলিউম ৯০ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে এবং টোকেনাইজড অ্যাসেটের বাজার বর্তমানে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে পেপারস্টোন এই পরিসংখ্যানগুলোর তথ্যসূত্র বা অনুসৃত পদ্ধতির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলোতে যেসব পার্পেচুয়াল ফিউচার্স পাওয়া যায়, সেগুলোর চেয়ে এই সিএফডি পণ্যগুলো ভিন্ন। ক্রিপ্টো ওয়ালেট, এক্সচেঞ্জের জামানত বা আলাদা নিবন্ধন প্রক্রিয়া ছাড়াই গ্রাহকরা তাদের সাধারণ ট্রেডিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরাসরি এই আর্থিক সুবিধা নিতে পারছেন।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার কড়াকড়ি ও সীমাবদ্ধতা
পার্পেচুয়ালকে ট্রেডিংয়ের নতুন দিগন্ত হিসেবে তুলে ধরা হলেও ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর আইন কিন্তু বেশ কঠোর। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, পার্পেচুয়াল ফিউচার্স মূলতঃ সিএফডির অন্তর্ভুক্ত। ফলে সাধারণ খুচরা (Retail) বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে লেভারেজের ওপর যেসব আইনি কড়াকড়ি ও পণ্য-নিয়ন্ত্রণ নীতি প্রযোজ্য, তা এই পার্পেচুয়াল পণ্যের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য হবে।
আঞ্চলিক আইনি কাঠামোর কারণে পেপারস্টোনের বিজ্ঞপ্তিতে একটি নির্দিষ্ট সতর্কবার্তাও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। দুবাই থেকে প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তিতে তারা এএসআইসি (ASIC), এফসিএ (FCA), ডিএফএসএ (DFSA), বাফিন (BaFin) এবং সাইসেক (CySEC)-সহ ৭টি বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকির কথা বললেও, শেষাংশে সংযুক্ত বিজ্ঞপ্তিতে কেবল সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্যাপিটাল মার্কেট অথরিটির (CMA) আর্থিক পরামর্শক লাইসেন্সের উল্লেখ পাওয়া গেছে।
২৪ ঘণ্টা ট্রেডিংয়ে ব্রোকারদের প্রতিযোগিতা
পেপারস্টোনের গ্রুপ প্রধান নির্বাহী তামাস সাবো (Tamas Szabo) বলেন, “একটি নির্দিষ্ট সময়ের গণ্ডিতে ট্রেডিং করার দিন শেষ হয়ে আসছে। আমরা বিশ্বাস করি পার্পেচুয়াল মার্কেট আধুনিক অর্থায়নে একটি অতি সাধারণ ফিচারে পরিণত হবে।”
নির্ধারিত সময়ের বাইরে ২৪ ঘণ্টা লেনদেনের এই ট্রেন্ডে বিশ্বের অনেক ব্রোকারই যুক্ত হচ্ছে, যার মধ্যে স্পেসএক্সই ছিল প্রধান আকর্ষণ। একই দিনে সিএমসি মার্কেটস (সিএফডির মাধ্যমে) এবং বাইন্যান্স (টোকেনের মাধ্যমে) স্পেসএক্সের লেনদেন চালু করেছিল। আর পেপারস্টোন তাদের নিজস্ব মডেলে এটি পার্পেচুয়াল হিসেবে যুক্ত করে।
পেপারস্টোনের রিসার্চ প্রধান ক্রিস ওয়েস্টন বলেন, “বাজারকে প্রভাবিত করার মতো ঘটনা বা খবরগুলো এখন আর শেয়ারবাজারের ঘণ্টার ধ্বনির জন্য অপেক্ষা করে না।”
তবে এই সুবিধার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। গ্রাহকরা সব অঞ্চল বা অধিক্ষেত্র থেকে সরাসরি এতে অংশ নিতে পারবেন না এবং এই মডেলে আর্থিক সমন্বয় বা ফান্ডিং সেটেলমেন্ট সার্বক্ষণিক না হয়ে দিনে মাত্র একবার সম্পন্ন হয়।