Meta Trader- অনলাইন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ক্যাপিটাল ডটকম (Capital.com) ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই তিন মাসে প্রতিষ্ঠানটির প্ল্যাটফর্মে গ্রাহকদের মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১.১৩ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা প্রথম প্রান্তিকের (Q1) ১.২৭ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়ে কম। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে সোনার দাম প্রতি আউন্সে ৪,০০০ ডলারের দিকে নেমে আসা সত্ত্বেও প্ল্যাটফর্মটিতে মোট লেনদেনের সর্বোচ্চ ৪২.৪% এককভাবে দখল করে রেখেছিল স্বর্ণ।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্ল্যাটফর্মটিতে মোট ট্রেডের সংখ্যা ২৩.২% কমে ৩ কোটি ৪৯ লাখে (৩৪.৯ মিলিয়ন) নেমে এসেছে। তবে গড় ট্রেডের পরিমাণ ১৬% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২,৪১৮ ডলারে, যা প্রথম প্রান্তিকে ছিল ২৭,৯৫০ ডলার। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, গ্রাহকরা কমসংখ্যক পজিশন নিলেও আগের চেয়ে বেশি অর্থের ট্রেড করেছেন।
দ্বিতীয় প্রান্তিক: তিন মাসে বাজারের ভিন্ন তিন রূপ
ক্যাপিটাল ডটকমের মতে, দ্বিতীয় প্রান্তিকটি মূলত তিনটি ভিন্ন পর্যায় বা ধাপে বিভক্ত ছিল:
- এপ্রিল: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার ঘটনাটি পুরো বাজারকে প্রভাবিত করে, ফলে জ্বালানি তেল এবং মূল্যবান ধাতুর বাজারে ট্রেডারদের মনোযোগ ও লেনদেন কেন্দ্রীভূত হয়।
- মে: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়া এবং শেয়ারবাজারে ইতিবাচক গতি ফেরায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ প্রযুক্তি খাত ও সূচক বাজারের দিকে ধাবিত হয়। এই মাসে তিন মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম—৩৬৯.৪ বিলিয়ন ডলারের লেনদেন ঘটে।
- জুন: স্বর্ণের দর সংশোধন হয়ে প্রতি আউন্স ৪,০০০ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়ার গুঞ্জন চাঙ্গা হয়, যার ফলে শেয়ারবাজারের ট্রেডিং গতি পায়।
একক পণ্য হিসেবে প্ল্যাটফর্মটির দ্বিতীয় সর্বাধিক সক্রিয় ক্ষেত্র ছিল মার্কিন প্রযুক্তি খাতের সূচক ‘ইউএস টেক ১০০’ (US Tech 100), যা মোট লেনদেনের ২৫.৯% দখল করে। এরপর যথাক্রমে ডব্লিউটিআই ক্রুড অয়েল (৭%), ডাও জোন্স ৩০ (৪.৮%) এবং ড্যাক্স ৪০ (৪%) অবস্থান নেয়।
প্রধান পরিসংখ্যানের এক নজর (দ্বিতীয় প্রান্তিক ২০২৬)
| সূচক / বিবরণ | ২য় প্রান্তিক ২০২৬ | ১ম প্রান্তিক ২০২৬ | পরিবর্তন (QoQ) |
| মোট লেনদেনের পরিমাণ (Trading Volume) | $১.১৩ ট্রিলিয়ন \vert{} $১.২৭ ট্রিলিয়ন | -১১% | |
| মোট ট্রেডের সংখ্যা (Trade Count) | ৩.৪৯ কোটি (৩৪.৯M) | ৪.৫৫ কোটি (৪৫.৫M) | -২৩.২% |
| গড় ট্রেডের আকার (Avg Trade Size) | $৩২,৪১৮ \vert{} $২৭,৯৫০ | +১৬.০% | |
| স্টপ-লস ব্যবহারের হার (Stop-loss Adoption) | ২৬.৬% | ২২.৪% | +৪.২ শতাংশ পয়েন্ট |
আঞ্চলিক ভিত্তিতে ট্রেডিংয়ের রূপরেখা
আঞ্চলিকভিত্তিতে ক্যাপিটাল ডটকমের মোট লেনদেনের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে (৫৭.২%)। সেখানকার গ্রাহকদের ট্রেডিংয়ের প্রায় অর্ধেকই (৪৯.৯%) ছিল সোনা ঘিরে।
ক্যাপিটাল ডটকমের মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী তারিক চেবিব জানান, “মধ্যপ্রাচ্যে পণ্যভিত্তিক লেনদেনের আধিক্য মূলত সোনা ও জ্বালানি পণ্যের শক্তিশালী চাহিদারই বহিঃপ্রকাশ।”
অন্যদিকে, ইউরোপীয় বাজার প্ল্যাটফর্মটির মোট ভলিউমের ২১.৭% অবদান রেখেছে, যার নেতৃত্বে ছিল জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স ও পোল্যান্ড। যুক্তরাজ্যের গ্রাহকদের ঝুঁকানোর প্রবণতা ছিল শেয়ারবাজারের দিকে; তাদের ৪০% ট্রেড হয়েছে ইউএস টেক ১০০ সূচকে এবং স্বর্ণে ছিল মাত্র ১৩.৮%।
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সতর্ক বিনিয়োগকারীরা
দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্রাহকদের মধ্যে ঝুঁকি কমানোর কৌশল প্রয়োগের ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। প্ল্যাটফর্মটির মোট পজিশনের ২৬.৬%-এ ‘স্টপ-লস’ (Stop-loss) অর্ডার ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রথম প্রান্তিকে ছিল ২২.৪%।
সুইডেনে এই হার সবচেয়ে বেশি (৩২.০%), যার পরপরই রয়েছে নেদারল্যান্ডস (৩১.২%), জার্মানি (২৯.৩%) এবং ইতালি (২৯.১%)।
ক্যাপিটাল ডটকমের ইউরোপীয় অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী ক্রিস্টোফোরোস সাউতজিস বলেন, “স্টপ-লসের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার আমাদের নির্দেশ করে যে, গ্রাহকরা ট্রেডে প্রবেশের পরই কেবল ঝুঁকি নিয়ে ভাবছেন না, বরং ট্রেড শুরু করার আগেই সচেতনভাবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।”