Meta Trader- দুবাইভিত্তিক অনলাইন ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ইক্যুইটি গ্রুপ (Equiti Group) ভারতে তাদের নতুন প্রযুক্তি কেন্দ্র বা ‘টেকনোলজি হাব’ চালু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ব্রোকারেজ ব্যবসার জন্য পরিচিত এই কোম্পানিটি ভারতে প্রকৌশল খাতের মেধা ও মানবসম্পদ ব্যবহারের লক্ষ্যেই বেঙ্গালুরুতে এই কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বেঙ্গালুরুর এই কেন্দ্র থেকে মূলত সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেটা, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), সাইবার সিকিউরিটি এবং ক্লাউড সিস্টেমের ওপর কাজ পরিচালনা করা হবে।
রিটেইল বাজার নয়, বরং মেধাভিত্তিক মানবসম্পদ অর্জনের লক্ষ্য
ইক্যুইটির ভারতে এই বিনিয়োগ স্থানীয় রিটেইল ট্রেডারদের কাছে সেবা বিক্রি বা ট্রেডিং সুবিধা দেওয়ার জন্য নয়, বরং দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ নিয়োগের উদ্দেশ্যে। ভারতের কঠোর মুদ্রা-নিয়ন্ত্রণ আইন এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে বিদেশি ব্রোকারদের জন্য দেশটির রিটেইল ট্রেডারদের সেবা দেওয়া অনেকটাই নিষিদ্ধ বা ধূসর সীমানার (Legal Grey Zone) অন্তর্গত। আইনি জটিলতার কারণে ইতিপূর্বে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ব্যবসায়িক গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
ইক্যুইটি গ্রুপ ভারতে ট্রেডিং সেবা না এনে কেবল একটি ‘ট্যালেন্ট সোর্স’ বা মেধার উৎস হিসেবে ব্যবহার করে সেই আইনি জটিলতা সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে গেছে।
কোম্পানিটির মতে, বেঙ্গালুরুর স্থানীয় স্টার্টআপ এবং গবেষণা কেন্দ্রগুলোর কারণে শহরের প্রকৌশলীদের নাগাল পাওয়া তাদের জন্য সহজ হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রযুক্তি তৈরির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মানুষের আর্থিক সম্পদে প্রবেশাধিকার বা ‘এক্সেস টু ওয়েলথ’ বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইক্যুইটি।
প্রধান হাইলাইটস ও কৌশলগত তথ্য
| বিষয় / বিবরণ | বিশদ তথ্য |
| নতুন কেন্দ্রের স্থান | বেঙ্গালুরু, ভারত (কোম্পানির প্রথম টেক হাব) |
| মূল কার্যক্রম | এআই, সাইবার নিরাপত্তা, ক্লাউড প্রযুক্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিং |
| ব্যবসার প্রকৃতি | প্রযুক্তি উন্নয়ন কেন্দ্র (স্থানীয় রিটেইল ট্রেডারদের জন্য নয়) |
| আন্তর্জাতিক লাইসেন্স | যুক্তরাজ্য (FCA), সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE), সাইপ্রাস (CySEC) ইত্যাদি |
ব্রোকারেজ খাতের টেকনোলজি হাব হিসেবে বেঙ্গালুরুর উত্থান
ইক্যুইটিই প্রথম ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান নয়, যারা প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য ভারতের বাজারকে বেছে নিয়েছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক ফরেক্স ও সিএফডি ব্রোকার অ্যাক্সি (Axi) বেঙ্গালুরুতে তাদের নিজস্ব ‘প্রোডাক্ট অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টার’ চালু করেছিল এবং অঞ্চলটির প্রকৌশলীদের ভূয়সী প্রশংসা করেছিল।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ব্রোকারেজ খাতের অন্যান্য প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোও মেধা আকর্ষণে বড় বিনিয়োগ করছে:
- ডেরিভ (Deriv): সাইপ্রাসের নিকোসিয়ায় তাদের দ্বিতীয় কার্যালয় খুলেছে ট্রেডিং প্রযুক্তি ও এআই খাত জোরদার করতে।
- আমানা (amana) ও সিএফআই ফিন্যান্সিয়াল (CFI Financial): মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রযুক্তি ও প্রযুক্তিপ্রধান নির্বাহী পদগুলোতে সাবেক টেক-লিডারদের নিয়োগ দিয়েছে।
ইক্যুইটির ভারত অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ক্লায়েন্ট প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন প্রধান আকশিত জৈন বলেন, “প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিশ্বজুড়ে যেসব শক্তিশালী মেধার ক্ষেত্র রয়েছে, বেঙ্গালুরু তার মধ্যে অন্যতম। এই হাব আমাদের সেই প্রকৌশলীদের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেবে।”
তবে বেঙ্গালুরুর এই সেন্টারে মোট কতজন প্রকৌশলী নিয়োগ করা হবে, কী পরিমাণ বিনিয়োগ করা হচ্ছে কিংবা এটি পূর্ণাঙ্গভাবে কবে চালু হবে—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি কোম্পানিটি।
ব্রোকারেজের বাইরে প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসার বিস্তার
সাধারণ একটি আঞ্চলিক সিএফডি ব্রোকার থেকে নিজেদের বড় একটি ফিনটেক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের যে উদ্যোগ ইক্যুইটি নিয়েছে, বেঙ্গালুরুর হাবটি তারই একটি বড় অংশ। এর আগে ডিজিটাল পেমেন্ট কোম্পানি ‘ক্লাউড ইনভেস্ট’ (Cloud Invest) অধিগ্রহণের মাধ্যমে ডিজিটাল অর্থায়ন খাতে প্রবেশ করেছিল তারা। এছাড়া ডেটা ও এআই বিষয়ক কাজ ত্বরান্বিত করতে মেটা (Meta)-র সাবেক এক ইঞ্জিনিয়ারকেও নিয়োগ দিয়েছে তারা।
ইক্যুইটি গ্রুপের বর্তমানে যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সাইপ্রাসসহ বেশ কয়েকটি দেশে আন্তর্জাতিক লাইসেন্স রয়েছে। এছাড়া আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তাদের ব্রোকারেজ, পেমেন্টস এবং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের শাখা চালু রয়েছে।
ভারতে ইঞ্জিনিয়ারদের আকর্ষণে বেঙ্গালুরুতে টেকনোলজি হাব চালু করল ইক্যুইটি (Equiti)
দুবাইভিত্তিক অনলাইন ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ইক্যুইটি গ্রুপ (Equiti Group) ভারতে তাদের নতুন প্রযুক্তি কেন্দ্র বা ‘টেকনোলজি হাব’ চালু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ব্রোকারেজ ব্যবসার জন্য পরিচিত এই কোম্পানিটি ভারতে প্রকৌশল খাতের মেধা ও মানবসম্পদ ব্যবহারের লক্ষ্যেই বেঙ্গালুরুতে এই কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বেঙ্গালুরুর এই কেন্দ্র থেকে মূলত সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেটা, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), সাইবার সিকিউরিটি এবং ক্লাউড সিস্টেমের ওপর কাজ পরিচালনা করা হবে।
রিটেইল বাজার নয়, বরং মেধাভিত্তিক মানবসম্পদ অর্জনের লক্ষ্য
ইক্যুইটির ভারতে এই বিনিয়োগ স্থানীয় রিটেইল ট্রেডারদের কাছে সেবা বিক্রি বা ট্রেডিং সুবিধা দেওয়ার জন্য নয়, বরং দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ নিয়োগের উদ্দেশ্যে। ভারতের কঠোর মুদ্রা-নিয়ন্ত্রণ আইন এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে বিদেশি ব্রোকারদের জন্য দেশটির রিটেইল ট্রেডারদের সেবা দেওয়া অনেকটাই নিষিদ্ধ বা ধূসর সীমানার (Legal Grey Zone) অন্তর্গত। আইনি জটিলতার কারণে ইতিপূর্বে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ব্যবসায়িক গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
ইক্যুইটি গ্রুপ ভারতে ট্রেডিং সেবা না এনে কেবল একটি ‘ট্যালেন্ট সোর্স’ বা মেধার উৎস হিসেবে ব্যবহার করে সেই আইনি জটিলতা সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে গেছে।
কোম্পানিটির মতে, বেঙ্গালুরুর স্থানীয় স্টার্টআপ এবং গবেষণা কেন্দ্রগুলোর কারণে শহরের প্রকৌশলীদের নাগাল পাওয়া তাদের জন্য সহজ হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রযুক্তি তৈরির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মানুষের আর্থিক সম্পদে প্রবেশাধিকার বা ‘এক্সেস টু ওয়েলথ’ বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইক্যুইটি।
প্রধান হাইলাইটস ও কৌশলগত তথ্য
| বিষয় / বিবরণ | বিশদ তথ্য |
| নতুন কেন্দ্রের স্থান | বেঙ্গালুরু, ভারত (কোম্পানির প্রথম টেক হাব) |
| মূল কার্যক্রম | এআই, সাইবার নিরাপত্তা, ক্লাউড প্রযুক্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিং |
| ব্যবসার প্রকৃতি | প্রযুক্তি উন্নয়ন কেন্দ্র (স্থানীয় রিটেইল ট্রেডারদের জন্য নয়) |
| আন্তর্জাতিক লাইসেন্স | যুক্তরাজ্য (FCA), সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE), সাইপ্রাস (CySEC) ইত্যাদি |
ব্রোকারেজ খাতের টেকনোলজি হাব হিসেবে বেঙ্গালুরুর উত্থান
ইক্যুইটিই প্রথম ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান নয়, যারা প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য ভারতের বাজারকে বেছে নিয়েছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক ফরেক্স ও সিএফডি ব্রোকার অ্যাক্সি (Axi) বেঙ্গালুরুতে তাদের নিজস্ব ‘প্রোডাক্ট অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টার’ চালু করেছিল এবং অঞ্চলটির প্রকৌশলীদের ভূয়সী প্রশংসা করেছিল।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ব্রোকারেজ খাতের অন্যান্য প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোও মেধা আকর্ষণে বড় বিনিয়োগ করছে:
- ডেরিভ (Deriv): সাইপ্রাসের নিকোসিয়ায় তাদের দ্বিতীয় কার্যালয় খুলেছে ট্রেডিং প্রযুক্তি ও এআই খাত জোরদার করতে।
- আমানা (amana) ও সিএফআই ফিন্যান্সিয়াল (CFI Financial): মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রযুক্তি ও প্রযুক্তিপ্রধান নির্বাহী পদগুলোতে সাবেক টেক-লিডারদের নিয়োগ দিয়েছে।
ইক্যুইটির ভারত অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ক্লায়েন্ট প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন প্রধান আকশিত জৈন বলেন, “প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিশ্বজুড়ে যেসব শক্তিশালী মেধার ক্ষেত্র রয়েছে, বেঙ্গালুরু তার মধ্যে অন্যতম। এই হাব আমাদের সেই প্রকৌশলীদের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেবে।”
তবে বেঙ্গালুরুর এই সেন্টারে মোট কতজন প্রকৌশলী নিয়োগ করা হবে, কী পরিমাণ বিনিয়োগ করা হচ্ছে কিংবা এটি পূর্ণাঙ্গভাবে কবে চালু হবে—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি কোম্পানিটি।
ব্রোকারেজের বাইরে প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসার বিস্তার
সাধারণ একটি আঞ্চলিক সিএফডি ব্রোকার থেকে নিজেদের বড় একটি ফিনটেক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের যে উদ্যোগ ইক্যুইটি নিয়েছে, বেঙ্গালুরুর হাবটি তারই একটি বড় অংশ। এর আগে ডিজিটাল পেমেন্ট কোম্পানি ‘ক্লাউড ইনভেস্ট’ (Cloud Invest) অধিগ্রহণের মাধ্যমে ডিজিটাল অর্থায়ন খাতে প্রবেশ করেছিল তারা। এছাড়া ডেটা ও এআই বিষয়ক কাজ ত্বরান্বিত করতে মেটা (Meta)-র সাবেক এক ইঞ্জিনিয়ারকেও নিয়োগ দিয়েছে তারা।
ইক্যুইটি গ্রুপের বর্তমানে যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সাইপ্রাসসহ বেশ কয়েকটি দেশে আন্তর্জাতিক লাইসেন্স রয়েছে। এছাড়া আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তাদের ব্রোকারেজ, পেমেন্টস এবং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের শাখা চালু রয়েছে।