Meta Trader-— বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি সংক্রান্ত একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। এই চুক্তির ফলে রিয়াদ মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের সুযোগ পাবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরানের ওপর ওয়াশিংটন যে ধরণের আকস্মিক জাতিসংঘ পরিদর্শনের শর্ত আরোপ করেছিল, সৌদি আরবের ক্ষেত্রে তার প্রয়োজন হবে না।
সৌদি আরবের সঙ্গে একটি বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তির প্রক্রিয়া সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের পাশাপাশি জো বাইডেনের আমলেও বছরের পর বছর ধরে ঝুলে ছিল। পরমাণু প্রসার-বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর সতর্কবার্তার কারণে এতদিন কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সম্ভব হয়নি। তাদের মতে, এ ধরণের সমঝোতা সৌদি আরবকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ করে দিতে পারে।
বাইডেন প্রশাসনের প্রস্তাবিত খসড়ার সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের এই চুক্তির বড় পার্থক্য হলো, এখানে সৌদি আরবকে ‘অ্যাডিশনাল প্রোটোকল’ (অতিরিক্ত প্রটোকল) স্বাক্ষরে বাধ্য করা হয়নি। এই প্রটোকলের আওতায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) অঘোষিত যেকোনো স্থানে হঠাৎ তাৎক্ষণিক পরিদর্শন চালানোর এখতিয়ার পায়।
এক বছরেরও বেশি সময় আগে সৌদি আরব খুবই সীমিত পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা দেশগুলোর জন্য প্রযোজ্য নমনীয় আইএইএ তদারকি ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসে এবং ঘোষিত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো নিয়মিত নজরদারির আওতায় আনে। দেশটির দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত পারমাণবিক প্রসারণ কর্মসূচির অংশ ছিল এটি, যার মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।
অঘোষিত পারমাণবিক তৎপরতা ঠেকাতেই মূলত ‘অ্যাডিশনাল প্রোটোকল’ প্রণয়ন করা হয়েছিল। সৌদি আরবকে নিয়ে এই উদ্বেগ আরও তীব্র, কারণ দেশটির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বারবার সতর্ক করে বলেছেন—আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করলে রিয়াদও একই পথে হাঁটবে।
এর আগে বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তির অধীনে ইরান এই অতিরিক্ত প্রটোকল বাস্তবায়ন করেছিল। তবে ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে বের করে নিলে তা ভেস্তে যায়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ইরানও প্রটোকলটি বাস্তবায়ন সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।