Meta Trader — লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেল ট্যাঙ্কারে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারে টানা পঞ্চমবারের মতো অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইস্টার্ন টাইম (ET) সময় সকাল ৩:৩৫ মিনিট (০৭:৩৫ জিএমটি) পর্যন্ত, সেপ্টেম্বর মেয়াদের ব্রেন্ট অয়েল ফিউচার্সের দাম ৩.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৭.৪৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচার্সের দাম ২.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৮৯.১৭ ডলারে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর গত ৮ জুনের পর থেকে তেলের দাম কমতে শুরু করেছিল। তবে বৃহস্পতিবারের এই লাফিয়ে বাড়ার পর ব্রেন্ট ফিউচার্সের দাম সেই ৮ জুনের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাল।
সম্প্রতি ঘোষিত সামুদ্রিক অবরোধ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে হুতি বিদ্রোহীরা বৃহস্পতিবার জানায়, তারা ‘এনসেলা’ (ENCELA) এবং ‘লাইলিয়া’ (LAYLIA) নামে দুটি সৌদি ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো ক্ষয়ক্ষতির কথা নিশ্চিত করেনি; তবে এই ঘটনাটি চলমান সংঘাতকে আরও উসকে দিয়েছে, যা বৈশ্বিক নৌপরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামোর জন্য দিন দিন বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে হুতি গোষ্ঠীটি বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচল বন্ধ করার হুমকি দিয়েছিল। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা এই বাব আল-মান্দেব প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম জ্বালানি পরিবহন রুট। এখানে যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন দেখা দিলে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো বাধ্য হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করবে, যা যাতায়াতের সময় বাড়িয়ে দেবে এবং ফ্রেইট বা পরিবহন খরচ অনেক বাড়িয়ে তুলবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানে টানা ১২তম রাতের মতো নতুন দফায় হামলা সম্পন্ন করেছে। এটি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।