Meta Trader- মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ২০২৫ সালে কোনো প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারই অন্যায্য বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাদের মুদ্রার মান কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ বা কারসাজি করেনি। তবে ১০টি শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদারকে তাদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য গঠিত ‘নিবিড় নজরদারি তালিকায়’ (Monitoring List) বহাল রাখা হয়েছে।
ট্রেজারি তাদের সর্বশেষ অর্ধবার্ষিক মুদ্রা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, ‘ওমনিবাস ট্রেড অ্যান্ড কম্পিটিটিভনেস অ্যাক্ট ১৯৮৮’-এর আলোকে পরিচালিত বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, কোনো প্রধান অংশীদার দেশই মুদ্রার বিনিময় হারে কারসাজি করেনি। এছাড়া পৃথক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালজুড়ে মুদ্রা লেনদেন পর্যবেক্ষণের নির্ধারিত তিনটি মাপকাঠির সবগুলো পূরণ করেছে এমন কোনো দেশ নেই।
ট্রেজারি থেকে জানানো হয়, “তবে ১০টি দেশের অর্থনীতি বর্তমানে ট্রেজারির ‘নজরদারি তালিকায়’ রয়েছে, যাদের মুদ্রা নীতি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা প্রয়োজন। এই দেশগুলো হলো— চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড এবং সুইজারল্যান্ড। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের প্রতিবেদনেও এরা একই তালিকায় ছিল।”
‘ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যান্ড ট্রেড এনফোর্সমেন্ট অ্যাক্ট ২০১৫’-এ উল্লেখিত তিনটি নীতিমালার মধ্যে অন্তত দুটি পূরণ করলে কোনো দেশকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মাপকাঠিগুলো হলো:
- যুক্তরাষ্ট্রের সাথে উল্লেখযোগ্য দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত থাকা,
- চলতি হিসাবে বড় ধরনের উদ্বৃত্ত থাকা, এবং
- বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ধারাবাহিকভাবে একমুখী হস্তক্ষেপ করা।
সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এবং সুইজারল্যান্ড—এই তিনটি দেশ কেবল একটি করে শর্ত পূরণ করেছে। পরবর্তী প্রতিবেদনেও তারা যদি দুটির কম শর্ত পূরণ করে, তবে তাদেরকে এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের রিপোর্টের আগে, নীতি অনুযায়ী মার্কিন ট্রেজারির মূল নজর ছিল কোনো দেশ ডলারের বিপরীতে নিজস্ব মুদ্রার মান বৃদ্ধি ঠেকাতে একমুখী বাজারে হস্তক্ষেপ করছে কি না বা রপ্তানি সস্তা রাখতে কৃত্রিমভাবে অবমূল্যায়ন করছে কি না। কিন্তু এ বছর থেকে ট্রেজারি তাদের পর্যালোচনার পরিধি বাড়িয়েছে। সংস্থাটি জানুয়ারি মাসে জানায়, যেসব দেশ তাদের বিনিময় হারের ওঠানামা স্থিতিশীল রাখতে চেষ্টা করে, তারা মুদ্রার মান বৃদ্ধি ঠেকানোর পাশাপাশি মান পতন ঠেকাতেও সমান পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না—তা এখন আরও বিস্তৃতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।