Meta Trader- প্যারামাউন্ট কর্তৃক ১১০ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ওয়ার্নার ব্রোস. ডিসকভারি (Warner Bros. Discovery) অধিগ্রহণের চুক্তিটি বাতিলের দাবিতে ক্যালিফোর্নিয়া সহ যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্য সম্মিলিতভাবে একটি মামলা দায়ের করেছে। রাজ্যগুলোর অভিযোগ, এই চুক্তির ফলে চলচ্চিত্র বণ্টন (film distribution) এবং ক্যাবল টেলিভিশন খাতে সুস্থ প্রতিযোগিতা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে, যা সিনেমা হল ও পে-টিভি (pay TV) পরিবেশকদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলবে।
এই আইনি পদক্ষেপটি প্যারামাউন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) ডেভিড এলিসনের জন্য একটি বড় ধাক্কা। তিনি এই একীভূতকরণের মাধ্যমে তাঁর প্রতিষ্ঠানটিকে নেটফ্লিক্স এবং ডিজনির মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করানোর লক্ষ্য নিয়েছিলেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা এক বিবৃতিতে বলেন, “এই মামলার মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়া এবং আমাদের সহযোগী রাজ্যগুলো একটি মুক্ত ও ন্যায্য বাজারের পক্ষে লড়াই করছে, কোনো নিয়ন্ত্রিত বা কারসাজির বাজারের পক্ষে নয়। আমেরিকার সরকার কিংবা অর্থনীতি—কোথাও কোনো রাজার স্থান নেই।”
মামলাকারী রাজ্যগুলোর দাবি, এই চুক্তিটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে প্রদর্শিত মোট চলচ্চিত্রের ২৭ শতাংশ এবং ব্লকবাস্টার বা ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের ৩০ শতাংশ বণ্টন একচেটিয়াভাবে প্যারামাউন্টের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। এছাড়া সাধারণ ক্যাবল চ্যানেল বাজারেরও ২৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ থাকবে তাদের হাতে।
আদালতের এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণে প্যারামাউন্টকে শত শত মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অভিনেতা, চিত্রনাট্যকার এবং অন্যান্য কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে বিনোদন শিল্পে ব্যাপক কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে। সিনেমা হলের মালিকেরাও এই চুক্তির বিরোধিতা করে জানিয়েছেন, ওয়ার্নার ব্রোস. এবং প্যারামাউন্ট পিকচার্সের মতো দুটি বড় স্টুডিও এক হয়ে গেলে সামগ্রিকভাবে চলচ্চিত্র নির্মাণের সংখ্যা অনেক কমে যাবে।
তবে প্যারামাউন্ট এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, অবকাঠামো, বিপণন ও কর্পোরেট খাতের অপ্রয়োজনীয় পদগুলো থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার খরচ কমিয়ে আনার মাধ্যমে তারা আসলে চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিমাণ আরও বাড়াতে পারবে। সিইও ডেভিড এলিসন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, একীভূতকরণের পর যৌথ স্টুডিও দুটি থেকে বছরে অন্তত ৩০টি চলচ্চিত্র মুক্তি দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (DOJ) ইতিপূর্বেই এই চুক্তি অনুমোদন করেছে এবং জানিয়েছে যে এতে বাজার প্রতিযোগিতায় কোনো সমস্যা হবে না।
রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে, প্যারামাউন্টের সিইও ডেভিড এলিসনের পিতা তথা প্রযুক্তি জায়ান্ট ওরাকল (Oracle)-এর শতকোটিপতি সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসনের সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুসম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া প্যারামাউন্ট তাদের প্রতিষ্ঠানে ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকজন প্রাক্তন কর্মকর্তাকে উচ্চপদে নিয়োগ দিয়েছে।
চুক্তির শর্তানুযায়ী, আগামী অক্টোবরের মধ্যে যদি এই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হয়, তবে প্যারামাউন্ট প্রতি প্রান্তিকে (quarter) ওয়ার্নার ব্রোস. ডিসকভারির শেয়ারহোল্ডারদের প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে। প্যারামাউন্ট সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে যে, দীর্ঘায়িত বিলম্বের কারণে তাদের চুক্তির অর্থায়ন পুনর্নির্ধারণ করতে হতে পারে, যা কোম্পানির শেয়ার বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করবে এবং চূড়ান্তভাবে চুক্তিটি সম্পূর্ণ বাতিলও হয়ে যেতে পারে।