MetaTrader.bd: সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়েছে। এতে নতুন করে মূল্যস্ফীতি ধাক্কা খাওয়ার শঙ্কা জোরদার হয়েছে, যা মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভকে (ফেড) সুদের হার চড়া রাখার কঠোর (হকিশ) নীতিতে অটল রাখতে পারে। আর এই পূর্বাভাসের ফলেই অলাভজনক সম্পদ হিসেবে পরিচিত সোনার বাজারে ধস নেমেছে। সোমবার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই মূল্যবান এই ধাতুর দরপতন আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে।
ইটি সময় রাত ১টা ৫ মিনিটে (জিএমটি ০৫:০৫) স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম (XAU/USD) ১.৫৪ শতাংশ কমে ৪,০৫৭.৭৬ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে গোল্ড ফিউচার্সে সোনার দাম ১.১৭ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৪,০৬৫.৪৫ ডলারে। শুধু সোনাই নয়, রুপার দাম (XAG/USD) ২.৮০ শতাংশ কমে আউন্স প্রতি ৫৮.১৯ ডলার এবং প্ল্যাটিনামের দাম (XPT/USD) ১.৬১ শতাংশ কমে ১,৬০৪.৬০ ডলারে নেমেছে।
হরমুজ প্রণালীতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি মালবাহী জাহাজে হামলার পর, সপ্তাহান্তে ইরানি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। তেহরান দাবি করেছে যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি বন্ধ থাকবে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই ঘটনা চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনার নাজুক পরিস্থিতিকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।
তেলের দাম বৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতির নতুন শঙ্কা হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এই সংঘাত যেন আর না ছড়ায়, এমন আশাবাদের মধ্যেও তেলের দাম শুরুর দিকের প্রায় ৫ শতাংশ লাফানোর পর কিছুটা কমে এখনো ৩ শতাংশের ওপরে রয়েছে।
জ্বালানির দাম এভাবে টানা বাড়তে থাকলে তা মূল্যস্ফীতিতে আরেকটি বড় ধাক্কা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে ফেডারেল রিজার্ভ দীর্ঘ সময়ের জন্য সুদের হার উচ্চ স্তরে ধরে রাখতে পারে—এমন গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে। সাধারণত বন্ডের ফলন (ইয়াল্ড) এবং ডলারের মান বাড়লে সোনা বা এ ধরনের সুদবিহীন সম্পদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ কমে যায়।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত ফেডের জুন মাসের নীতি নির্ধারণী সভার কার্যবিবরণীতে (মিনিটস) দেখা গেছে, বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা সুদের হার আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছিলেন। শ্রমবাজার নিয়ে উদ্বেগ কমলেও নীতি নির্ধারকরা মূলত মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়েই বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী বৈঠক আগামী ২৮-২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সোনার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সিপিআই সূচক ও ফেড প্রধানের বক্তব্যের ওপর সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পেতে বিনিয়োগকারীরা এখন মঙ্গলবার প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) বা মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদন এবং ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের কংগ্রেসে দেওয়া প্রথম বক্তব্যের দিকে তাকিয়ে আছেন।
আইজি (IG)-এর বাজার বিশ্লেষক টনি সিকামোরের মতে, সোনা বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মূল্যস্ফীতির তথ্য—উভয় বিষয়ের ওপরই তীব্র সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে।
তিনি জানান, গত সপ্তাহে মনস্তাত্ত্বিক রূপরেখা ৪,০০০ ডলারের কাছাকাছি গিয়ে সোনা কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পেয়েছিল। যদি এটি ৪,২০০ থেকে ৪,২২০ ডলারের সীমা স্থায়ীভাবে অতিক্রম করতে পারে, তবে তা ২০০ দিনের গড় অবস্থান ৪,৪৯১ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনাকে আরও দৃঢ় করবে।
তবে সিকামোর সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সিপিআই বা মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদন যদি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি শক্তিশালী আসে, তবে তা চলতি বছরের শেষ নাগাদ ফেডের সুদের হার আরেক দফা বাড়ানোর সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেবে এবং ডলারের মানকে শক্তিশালী করবে, যা সোনার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে। বিপরীতে, মূল্যস্ফীতি কমে আসার তথ্য মিললে সাম্প্রতিক দরপতন কাটিয়ে সোনা স্থিতিশীল হতে পারে।
এদিকে সোমবার মার্কিন ডলার সূচক (ইউএস ডলার ইনডেক্স) ০.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ডলারে কেনাবেচা হওয়া মূল্যবান ধাতু সোনার ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে।