News, Commodities & Futures, Forex

হরমুজ সংকটে বাজারে অস্থিরতা: ডলার অপরিবর্তিত থাকলেও ইউরো ও পাউন্ডের ভিন্ন চাল

By · July 13, 2026

MetaTrader.bd মধ্যপ্রাচ্যের তীব্রতর হতে থাকা ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি এবং সামনে আসতে যাওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতি-বক্তব্য ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক উপাত্তের (Macroeconomic Data) বিষয়টি মুদ্রা ব্যবসায়ীরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করায় সোমবার ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ডের গতিপথে ভিন্নমুখী অবস্থান দেখা গেছে। তবে এ সময় মার্কিন ডলার সূচকটি (Dollar Index) স্থিতিশীল ছিল।

ইউরোপীয় বাজারে লেনদেনে ইউরোর দাম ০.১৫% বেড়ে ১.০৯২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে, পক্ষান্তরে ব্রিটিশ পাউন্ড ০.১% কমে ১.২৮৪৫ ডলারে নেমেছে। একই সাথে, বিশ্বের প্রধান ছয়টি আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে গ্রিনব্যাকের (মার্কিন ডলার) মান পরিমাপক ‘ইউএস ডলার ইনডেক্স’ ১০১.১৬-এ স্থির ছিল; নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের প্রাথমিক উত্থানের পর বাজার পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার কারণে এটি ঘটেছে।

উইকএন্ডে (সাপ্তাহিক ছুটি) মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর সোমবার বাজারে এই মিশ্র প্রবণতা দেখা গেল। তেহরান যখন বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ নৌপথটি বন্ধ ঘোষণা করে, তখন বাজারের উদ্বেগ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড পাল্টা দাবি করেছে যে কৌশলগত এই নৌপথটি এখনো উন্মুক্ত রয়েছে, তবুও সম্পূর্ণ জ্বালানি অবরোধের এই হুমকিতে সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৪.৪%-এর বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

জ্বালানি পণ্যের এই নতুন ধাক্কা বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ (মন্দার সাথে উচ্চ মূল্যস্ফীতি)-এর চাপের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল করে তুলেছে। সাধারণত ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হলে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ডলারের চাহিদা বাড়ে; তবে একই সাথে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ঘটায় ব্যবসায়ীরা বিশ্বব্যাপী সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন।

নজরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতি-বক্তব্য মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ আবারও সামনে চলে আসায়, বাজারের পুরো ফোকাস এখন আজ দিনের শেষের দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে আসতে যাওয়া নীতি-নির্দেশনামূলক বক্তব্যের ওপর।

ইউরোপের বিনিয়োগকারীরা ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) নির্বাহী বোর্ডের সদস্য ইসাবেল শ্নাবেলের বহুল প্রতীক্ষিত বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। ইউরোজোনের অন্যতম প্রভাবশালী কট্টরপন্থী (Hawkish) নীতি নির্ধারক হিসেবে পরিচিত শ্নাবেলের বক্তব্য থেকে এটি বোঝার চেষ্টা করা হবে যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের এই জ্বালানি সংকট ইসিবিকে তাদের পূর্বনির্ধারিত সুদের হার পরিবর্তনের পরিকল্পনা পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করবে কি না।

আটলান্টিকের ওপারে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) পদক্ষেপও এখন স্পটলাইটে। ফেড গভর্নর মিশেল বোম্যান—যিনি আরেকজন বিশিষ্ট কট্টরপন্থী নীতি নির্ধারক—আজকের সেশনে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।

তাছাড়া, মার্কিন ট্রেজারি আজ জুনের ফেডারেল বাজেট ব্যালেন্স (বাজেট ভারসাম্য) প্রকাশ করবে। এটি ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের বহুল প্রতীক্ষিত কংগ্রেসনাল সাক্ষ্য এবং জুনের গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সিপিআই (ভোক্তা মূল্যসূচক) প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতির একটি নতুন রূপরেখা প্রদান করবে।

বৈশ্বিক প্রভাবের মুখে মুদ্রা বাজার এশিয়ার প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্রগুলোতে রাতারাতি তৈরি হওয়া অস্থিরতার মধ্যেই প্রধান প্রধান মুদ্রার জোড়গুলোর (Currency Pairs) মধ্যে এই সতর্ক ও ধীরগতির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামার বক্তব্যের পর জাপানি ইয়েনের ওপর বাজারের গভীর নজর রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, গভর্মেন্ট পেনশন ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (GPIF) সহ বড় বড় পাবলিক পেনশন ফান্ডগুলোকে তাদের বিদেশের সম্পদগুলোর একটি বড় অংশ দেশীয় সম্পদে ফিরিয়ে আনতে উৎসাহিত করা হবে।

কাঠামোগতভাবে এই মূলধন দেশে ফিরিয়ে আনার (Repatriation) সম্ভাবনাটি ইয়েনের বাজারকে একটি শক্ত ভিত্তি দিয়েছে। ফলে প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের (Outflow) কারণে দক্ষিণ কোরিয়ান ওন এবং অস্ট্রেলিয়ান ডলারের ব্যাপক পতন হলেও, ডলারের সার্বিক বড় ধরনের উত্থান আটকে গেছে।

ইউরোপীয় কর্পোরেট খাতের আয়ের (Earnings) মৌসুম শুরু হওয়া এবং সামরিক হুমকির মুখে জ্বালানি সরবরাহ রুট পড়ার কারণে কারেন্সি ডেস্কগুলো সতর্ক করেছে যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকাররা সুনির্দিষ্ট নীতি-নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত মুদ্রার বাজারে এই অস্থির ও খণ্ডিত ভাব বজায় থাকবে।

MetaTrader.bd মধ্যপ্রাচ্যের তীব্রতর হতে থাকা ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি এবং সামনে আসতে যাওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতি-বক্তব্য ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক উপাত্তের (Macroeconomic Data) বিষয়টি মুদ্রা ব্যবসায়ীরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করায় সোমবার ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ডের গতিপথে ভিন্নমুখী অবস্থান দেখা গেছে। তবে এ সময় মার্কিন ডলার সূচকটি (Dollar Index) স্থিতিশীল ছিল।

ইউরোপীয় বাজারে লেনদেনে ইউরোর দাম ০.১৫% বেড়ে ১.০৯২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে, পক্ষান্তরে ব্রিটিশ পাউন্ড ০.১% কমে ১.২৮৪৫ ডলারে নেমেছে। একই সাথে, বিশ্বের প্রধান ছয়টি আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে গ্রিনব্যাকের (মার্কিন ডলার) মান পরিমাপক ‘ইউএস ডলার ইনডেক্স’ ১০১.১৬-এ স্থির ছিল; নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের প্রাথমিক উত্থানের পর বাজার পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার কারণে এটি ঘটেছে।

উইকএন্ডে (সাপ্তাহিক ছুটি) মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর সোমবার বাজারে এই মিশ্র প্রবণতা দেখা গেল। তেহরান যখন বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ নৌপথটি বন্ধ ঘোষণা করে, তখন বাজারের উদ্বেগ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড পাল্টা দাবি করেছে যে কৌশলগত এই নৌপথটি এখনো উন্মুক্ত রয়েছে, তবুও সম্পূর্ণ জ্বালানি অবরোধের এই হুমকিতে সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৪.৪%-এর বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

জ্বালানি পণ্যের এই নতুন ধাক্কা বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ (মন্দার সাথে উচ্চ মূল্যস্ফীতি)-এর চাপের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল করে তুলেছে। সাধারণত ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হলে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ডলারের চাহিদা বাড়ে; তবে একই সাথে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ঘটায় ব্যবসায়ীরা বিশ্বব্যাপী সুদের হারের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন।

নজরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতি-বক্তব্য মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ আবারও সামনে চলে আসায়, বাজারের পুরো ফোকাস এখন আজ দিনের শেষের দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে আসতে যাওয়া নীতি-নির্দেশনামূলক বক্তব্যের ওপর।

ইউরোপের বিনিয়োগকারীরা ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) নির্বাহী বোর্ডের সদস্য ইসাবেল শ্নাবেলের বহুল প্রতীক্ষিত বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। ইউরোজোনের অন্যতম প্রভাবশালী কট্টরপন্থী (Hawkish) নীতি নির্ধারক হিসেবে পরিচিত শ্নাবেলের বক্তব্য থেকে এটি বোঝার চেষ্টা করা হবে যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের এই জ্বালানি সংকট ইসিবিকে তাদের পূর্বনির্ধারিত সুদের হার পরিবর্তনের পরিকল্পনা পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করবে কি না।

আটলান্টিকের ওপারে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) পদক্ষেপও এখন স্পটলাইটে। ফেড গভর্নর মিশেল বোম্যান—যিনি আরেকজন বিশিষ্ট কট্টরপন্থী নীতি নির্ধারক—আজকের সেশনে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।

তাছাড়া, মার্কিন ট্রেজারি আজ জুনের ফেডারেল বাজেট ব্যালেন্স (বাজেট ভারসাম্য) প্রকাশ করবে। এটি ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের বহুল প্রতীক্ষিত কংগ্রেসনাল সাক্ষ্য এবং জুনের গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সিপিআই (ভোক্তা মূল্যসূচক) প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতির একটি নতুন রূপরেখা প্রদান করবে।

বৈশ্বিক প্রভাবের মুখে মুদ্রা বাজার এশিয়ার প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্রগুলোতে রাতারাতি তৈরি হওয়া অস্থিরতার মধ্যেই প্রধান প্রধান মুদ্রার জোড়গুলোর (Currency Pairs) মধ্যে এই সতর্ক ও ধীরগতির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামার বক্তব্যের পর জাপানি ইয়েনের ওপর বাজারের গভীর নজর রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, গভর্মেন্ট পেনশন ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (GPIF) সহ বড় বড় পাবলিক পেনশন ফান্ডগুলোকে তাদের বিদেশের সম্পদগুলোর একটি বড় অংশ দেশীয় সম্পদে ফিরিয়ে আনতে উৎসাহিত করা হবে।

কাঠামোগতভাবে এই মূলধন দেশে ফিরিয়ে আনার (Repatriation) সম্ভাবনাটি ইয়েনের বাজারকে একটি শক্ত ভিত্তি দিয়েছে। ফলে প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের (Outflow) কারণে দক্ষিণ কোরিয়ান ওন এবং অস্ট্রেলিয়ান ডলারের ব্যাপক পতন হলেও, ডলারের সার্বিক বড় ধরনের উত্থান আটকে গেছে।

ইউরোপীয় কর্পোরেট খাতের আয়ের (Earnings) মৌসুম শুরু হওয়া এবং সামরিক হুমকির মুখে জ্বালানি সরবরাহ রুট পড়ার কারণে কারেন্সি ডেস্কগুলো সতর্ক করেছে যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকাররা সুনির্দিষ্ট নীতি-নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত মুদ্রার বাজারে এই অস্থির ও খণ্ডিত ভাব বজায় থাকবে।

Get Market Updates in Your Inbox

Free daily news and analysis, straight to your email.

Related

News, Stock Market

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিপুল ব্যয় ও তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি: ওয়াল স্ট্রিটে বড় ধস, নামল নাসডাক

July 24, 2026
Commodities & Futures, News

ব্রেন্ট ক্রুড ১০০ ডলার ছাড়ানোয় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা: শক্তিশালী ডলারের ধাক্কায় সোনার দামে ২ শতাংশ পতন

July 24, 2026
Forex, News

মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট: ২০২৫ সালে কোনো বাণিজ্যিক অংশীদার মুদ্রা বাজারে কারসাজি করেনি

July 24, 2026

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Become Our Partner
MetaTrader
Hi there! 👋
How can we help you today?
Start Chat on WhatsApp