Meta Trader: মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির আসন্ন উপাত্ত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মাঝে বাড়তি সতর্কতা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ কংগ্রেসে তাঁর প্রথম ষাণ্মাসিক সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন। এই দ্বিমুখী আবহের মাঝে আজ (মঙ্গলবার) বিশ্ব বাজারে ডলারের দর ১৩ মাসের সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
পারস্য উপসাগরে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর পাল্টা হামলার জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক পণ্য পরিবহন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৯০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ফলশ্রুতিতে, বিনিয়োগকারীরা এখন চলতি বছরেই বিশ্বজুড়ে সুদের হার আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন।
পাল্টা-পাল্টি এই সংঘাত কতদিন স্থায়ী হতে পারে এবং তা বিশ্ব বাজারে তেল সরবরাহে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে—তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীদের মূল নজর এখন মূল্যস্ফীতির গতিপ্রকৃতির ওপর।
সিটি ইনডেক্সের মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট ফিওনা সিনকোটা নতুন ফেড চেয়ারম্যানের কঠোর আর্থিক নীতি অনুসরণের প্রবণতা সম্পর্কে বলেন, “মূল (কোর) মূল্যস্ফীতি এবং তেলের ক্রমবর্ধমান দাম—উভয়ই ডলারকে শক্তিশালী করছে। এর ওপর রয়েছে ওয়ার্শের বক্তব্য। আমার মনে হয় ফেড বৈঠকের চেয়েও এখানে তাঁকে বেশি জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে, যা বেশ আকর্ষণীয় হবে; কারণ তিনি তাঁর কৌশলগুলো এখনই প্রকাশ করতে চান না।”
সম্প্রতি ওয়ার্শ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, যারা ভাবছেন ফেড মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নমনীয় হবে, তারা “হতাশ” হবেন। তবে আগামী মাসগুলোতে আর্থিক নীতির ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো রূপরেখা দেননি।
ফিউচারস মার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা আগামী জুলাই মাসেই ফেড কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির ২০ শতাংশ সম্ভাবনা দেখছেন। এই পূর্বাভাসের জেরে মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড (সরকারি বন্ডের সুদ) বেড়ে ৪.৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যা গত মে মাসের পর সর্বোচ্চ। এটি ডলারের অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে।
এদিকে, ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর ক্রিস্টোফার ওয়ালার জানিয়েছেন, উপাত্তে যদি মূল্যস্ফীতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যের চেয়ে অনেক ওপরে থাকার প্রমাণ মেলে, তবে “নিকট মেয়াদে” সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।
রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদদের মতে, জুনে সামগ্রিক মার্কিন মূল্যস্ফীতি ৩.৮ শতাংশ এবং খাদ্য ও জ্বালানি বহির্ভূত মূল (কোর) মূল্যস্ফীতি ২.৮ শতাংশ হতে পারে।
মুদ্রা বাজারে আজ ইউরোর দাম ০.১% বৃদ্ধি পেয়ে ১.১৩৯৬ ডলারে এবং ব্রিটিশ পাউন্ড ০.২% বেড়ে ১.৩৩৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের উত্থান-পতনের ঝুঁকি এড়াতে ব্যবসায়ীদের সতর্কতার কারণে রাতারাতি মুদ্রার অস্থিরতা (ভলাটিলিটি) বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোর জন্য ‘ওভারনাইট ইমপ্লাইড ভলাটিলিটি’ মঙ্গলবার সাময়িকভাবে ১০% ছাড়িয়ে যায়, যা গত এপ্রিলের পর বিরল।
চাপের মুখে জাপানি ইয়েন
আজ মঙ্গলবার জাপানি ইয়েন মার্কিন ডলারের বিপরীতে ০.১৪% বৃদ্ধি পেয়ে ১৬২.২৪-এ পৌঁছালেও, তা চার দশকের সর্বনিম্ন স্তরের ঠিক ওপরেই অবস্থান করছে। ফলে টোকিও বাজার নিয়ন্ত্রণে সরাসরি মুদ্রা ক্রয়ের (হস্তক্ষেপ) কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকে সতর্ক নজর রাখছেন ব্যবসায়ীরা।
জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামার এক মন্তব্যের পর জাপানি মুদ্রা সাময়িকভাবে কিছুটা শক্তিশালী হয়। তিনি জানান, সম্পদ ব্যবস্থাপনার পরিবেশ যদি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়, তবে টোকিও তাদের রাষ্ট্রীয় পেনশন ফান্ডের সম্পদ বণ্টন (অ্যাসেট অ্যালোকেশন) পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
তবে আজ আলাদা এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনিচিরো উয়েনো বলেন, প্রয়োজন হলে ‘গভর্নমেন্ট পেনশন ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ (GPIF)-এর সম্পদ বণ্টন পর্যালোচনা করা হবে। তবে নিকট মেয়াদে এমন কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা তিনি নাকচ করে দেন।
মিজুহো সিকিউরিটিজের প্রধান মুদ্রা কৌশলবিদ মাসাফুমি ইয়ামামোতো এক নোটে বলেন, “পেনশন ফান্ডের সম্পদ পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে ইয়েন ক্রয়ের চাপ স্থায়ী করতে হলে এই সিদ্ধান্তটি দ্রুত নিতে হবে। একই সাথে দেশীয় বন্ড ও শেয়ার বাজারে ফান্ডের বরাদ্দ অন্তত ৫ শতাংশ বাড়াতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “যদি এই বরাদ্দ বৃদ্ধি সামান্য হয় কিংবা সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ সময় লাগে, তবে ইয়েন চাঙ্গা করার ক্ষেত্রে এর প্রভাব হবে অত্যন্ত সীমিত।”