Meta Trader- সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস সোমবারে উত্থান দিয়ে শুরু করলেও পরবর্তীতে সেই গতি হারিয়ে মার্কিন শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। চলতি সপ্তাহে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিবরণী বা ‘আর্নিং রিপোর্ট’ প্রকাশের ঘোষণার ওপরই নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। এর পাশাপাশি অর্থনৈতিক তথ্যের স্বল্পতা এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’-এর নীতি-সংক্রান্ত মন্তব্য বন্ধের সময়সীমা (ব্ল্যাকআউট পিরিয়ড) চলায় মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাই এখন বাজারের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
ইস্টার্ন সময় সকাল ১০:৩৭ মিনিট অনুযায়ী:
- এসঅ্যান্ডপি ৫০০ (S&P 500): সূচক ০.৩% বৃদ্ধি পেয়ে ৭,৪৭৬.৬১ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
- নেসড্যাক কম্পোজিট (NASDAQ Composite): প্রযুক্তি খাতের আধিপত্য থাকা এই সূচক ০.৬% বেড়ে ২৫,৬৫৯.১০ পয়েন্ট স্পর্শ করে।
- ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ (Dow Jones): শুরুর ঊর্ধ্বমুখী ভাব ধরে রাখতে না পেরে ০.৪% কমে ৫১,৯৫৫.০৭ পয়েন্টে নেমে আসে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর শেয়ারের ধসে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে মার্কিন বাজার। এতে ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর ইনডেক্স মন্দা বা ‘বেয়ার মার্কেট’ তালিকায় প্রবেশ করে। সপ্তাহজুড়ে নেসড্যাক ২.৯%, এসঅ্যান্ডপি ১.৬% এবং ডাও জোন্স ০.৯% সূচক হারিয়েছে।
ডয়চে ব্যাংকের (Deutsche Bank) বিশ্লেষকরা এক নোটে জানান, “গ্রীষ্মের এই সময়ে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল মনে হলেও, গত সপ্তাহের ঘটনাগুলো মনে করিয়ে দেয় যে কিছু বড় অমীমাংসিত ঝুঁকি এখনও রয়েছে, যা কম তরলতার বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।”
এআই খাত ও অপরিশোধিত তেলের প্রভাব
চলতি বছর শেয়ারবাজারের উত্থানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাত মূল ভূমিকা রাখলেও, এ খাতে বিশাল বিনিয়োগের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, অনেক সক্রিয় তহবিল ব্যবস্থাপক (Active Managers) ইতোমধ্যে এআই-সংশ্লিষ্ট শেয়ারে তাঁদের বিনিয়োগের পরিমাণ কমাতে শুরু করেছেন।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের তীব্রতা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলা এবং ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে:
- ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude): ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলার অতিক্রম করার পর কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে।
- ডব্লিউটিআই (WTI): যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮৪ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।
তেলের এই উচ্চমূল্য মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলতে পারে। কারণ শক্তি খাতের বাড়তি খরচ মূল্যস্ফীতি কমানোর অগ্রযাত্রায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে এসব উত্তেজনার মধ্যেও মার্কিন ও ইরানি কূটনৈতিকদের আলোচনার ইতিবাচক ইঙ্গিতে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।