Meta Trader — দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং লেবাননি সেনাবাহিনী মোতায়েনের একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরুর পটভূমিতে আগামী ৪ আগস্ট ইতালিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় পরবর্তী ধাপে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে লেবানন ও ইসরায়েল। বুধবার রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন এক লেবাননি কর্মকর্তা।
আঞ্চলিক উত্তেজনার জেরে গত ২ মার্চ ইসরায়েল এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর সংঘাতের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে ঐতিহাসিক এই দুই দীর্ঘদিনের শত্রু দেশ বিগত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে মুখোমুখি আলোচনা চালিয়ে আসছে।
কয়েক দশকের আক্রমণ, সামরিক দখলদারিত্ব এবং সীমান্ত সংঘাতের কারণে যেসব দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং আনুষ্ঠানিকভাবে যারা এখনো যুদ্ধে লিপ্ত, তাদের মধ্যে রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে এই ধরণের সরাসরি বৈঠক অত্যন্ত বিরল।
যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে অনুষ্ঠিত পাঁচটি বৈঠকের পর গত মাসের শেষের দিকে একটি খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত হয়। এই চুক্তিতে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ, দক্ষিণ লেবানন থেকে পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের রূপরেখা তুলে ধরা হয়।
এরপর থেকে প্রযুক্তিগত বিবরণ এবং ‘পাইলট জোন’ (যে ভৌগোলিক এলাকায় এই পর্যায়ক্রমিক প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়িত হবে) সংক্রান্ত নির্দেশিকা নিয়ে আলোচনার জন্য রাষ্ট্রদূত পর্যায়ের এই বৈঠকগুলো ইতালির রাজধানী রোমে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
পূর্ণাঙ্গ ইসরায়েলি প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় লেবানন
পাইলট জোন কর্মসূচির অধীনে প্রথম ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের ঘটনাটি ঘটেছে চলতি সপ্তাহেই।
দক্ষিণ লেবাননের জাওতার আল-গারবিয়াহ শহর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরে যাওয়ার পর সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন শুরু হয়েছে। তবে অবিস্ফোরিত গোলা ও মাইন নিষ্ক্রিয় না করা পর্যন্ত বাসিন্দাদের সেখানে ফিরতে সাময়িক বিলম্ব করার অনুরোধ জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বুধবার জাওতার আল-গারবিয়াহ সফর করেন এবং সেখানে লেবাননের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তিনি বলেন, রাস্তাঘাট পুনরায় চালু করা, ধ্বংসস্তূপ সরানো এবং সরকারি পরিষেবাগুলো পুনরুদ্ধার করতে সরকার কাজ করবে যাতে দ্রুত বাসিন্দারা ফিরে আসতে পারেন।
সালাম উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের এই আংশিক প্রত্যাহার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হলেও লেবাননের মূল দাবি পুরো লেবাননি ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার।
ইসরায়েল এখনো তাদের সীমান্ত বরাবর লেবাননের অভ্যন্তরে প্রায় ১০ কিলোমিটার (৬ মাইল) এলাকা জুড়ে তথাকথিত একটি ‘বাফার জোন’ দখল করে রেখেছে, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে গ্রামগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, উত্তর ইসরায়েলের সামরিক ও বেসামরিক এলাকাগুলোকে হিজবুল্লাহর হামলা থেকে রক্ষা করতে এই বাফার জোন বজায় রাখা জরুরি।
গত মাসে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনী সুনিয়ন্ত্রিতভাবে ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংস করা অব্যাহত রেখেছে বলে লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ফলাফলে হাজার হাজার লেবাননি নাগরিক এখনো বাস্তুচ্যুত হয়ে আছেন; নিজেদের গ্রাম ইসরায়েলি দখলে থাকা বা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণে তারা নিজ ঘরে ফিরতে পারছেন না।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত হিজবুল্লাহ সশস্ত্র থাকবে, ততক্ষণ তারা দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান করবেন। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীটি ইসরায়েলের সাথে লেবানন সরকারের এই সরাসরি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে নিজের প্রথম সরকারি সফরকালে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, লেবানন থেকে ইসরায়েলের পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাহারই পারবে “সেই মূল কারণটি দূর করতে, যা হিজবুল্লাহ এতদিন ধরে তাদের অস্ত্র রাখার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।”
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত মন্তব্য অনুযায়ী ওয়াশিংটনে লেবানন দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আউন বলেন, কেবল ইসরায়েলি প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ার পরেই হিজবুল্লাহকে স্থায়ীভাবে নিরস্ত্র করা সম্ভব।