Meta Trader- বুলিয়ন বাজারে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে বুধবার আবারও বেড়েছে সোনার দাম। শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও সোনার এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রয়েছে। একই সাথে, জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফেডারেল রিজার্ভ’-এর সুদের হারের পূর্বাভাসে কী প্রভাব ফেলবে, বিনিয়োগকারীরা তা পর্যবেক্ষণ করছেন।
ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী ভোর ০২:০৮ টায় (০৬:০৮ জিএমটি), স্পট গোল্ডের (XAU/USD) দাম ১.৩% বেড়ে আউন্সপ্রতি $৪,১৩২.৭৯ ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে সোনার ফিউচার প্রাইস (Gold Futures) ১.৫% বৃদ্ধি পেয়ে $৪,১৩৭.০৯ ডলারে দাঁড়ায়। পাশাপাশি রূপা (XAG/USD) ১.৫% বেড়ে আউন্সপ্রতি $৫৯.৭১ ডলার এবং প্ল্যাটিনাম (XPT/USD) ২.৩% লাফিয়ে $১,৬৬৬.৫৯ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিতে নজর
আগের সেশনের প্রায় ২% বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় সোনার দাম আরও বাড়ল। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে তৈরি হওয়া হুমকি মূল্যস্ফীতিকে উচ্চপর্যায়ে রাখতে পারে এবং ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত সিদ্ধান্তকে জটিল করতে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।
বাজারের দৃষ্টি এখন আগামী সপ্তাহের ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের দিকে। সেখানে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা বেশি থাকলেও, জ্বালানিভিত্তিক মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকলে দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ সুদের হার বজায় রাখার বার্তা দেওয়া হতে পারে।
এদিকে মার্কিন বাহিনী টানা ১১তম রাতের মতো হামলা চালালেও এবং তেহরান পাল্টা আক্রমণ অব্যাহত রাখলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ওয়াশিংটন ইরানের সাথে আলোচনার পথ খোলা রেখেছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরসহ প্রধান জ্বালানি পরিবহন রুটগুলোর আশেপাশের সংঘাত বিশ্ববাজারের প্রধান উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে ধারাবাহিক হামলা এবং আঞ্চলিক নৌ-যোগাযোগে নতুন হুমকির কারণে তেলের দাম জুলাইয়ের দরবৃদ্ধির ধারা বজায় রেখে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের উপরে অবস্থান করছে।
৪,১২০ ডলারের বাধা পেরিয়ে কারিগরি সূচকে স্বস্তি
আইজি (IG)-এর বাজার বিশ্লেষক টনি সিকামোর জানান, শক্তিশালী ডলার এবং ঊর্ধ্বমুখী ট্রেজারি ইয়েল্ড থাকা সত্ত্বেও সোনার এই ঘুরে দাঁড়ানো নির্দেশ করে যে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির সাথে সাথে বিনিয়োগকারীরা আবার সুরক্ষিত সম্পদ হিসেবে সোনার ঐতিহ্যবাহী ভূমিকার ওপর আস্থা রাখছেন।
সিকামোর বলেন, “সোনার দর রাতারাতি বেড়েছে। ইতিবাচক এই ধারা মার্কিন ডলার ও বন্ড ইয়েল্ডের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক উত্থান সত্ত্বেও সাধারণ খুচরা বিনিয়োগকারীদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান সোনাকে তার নিরাপদ বিনিয়োগের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করছে।
তিনি জানান, জুনের শেষের দিকে সোনার সর্বনিম্ন দাম ৩,৯৪২ ডলারের কাছাকাছি একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হচ্ছে। ৪,১২০ ডলারের ডাউনট্রেন্ড রেজিস্ট্যান্স ভেঙে ধরে রাখতে পারলে এবং পরবর্তীতে জুলাইয়ের শুরুর দিকে অর্জিত ৪,২০২ ডলারের সর্বোচ্চ মান অতিক্রম করলে তা ২০০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজ (প্রায় ৪,৪৯৪ ডলার)-এর দিকে যাওয়ার পথকে শক্তিশালী করবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুনের শেষের সর্বনিম্ন দর ধরে রাখা পর্যন্ত সোনার বাজার নিয়ে সতর্ক আশাবাদ বজায় রেখেছে আইজি।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্ত মূল্যায়নের মাঝে আগের সেশনে ৪%-এর বেশি বৃদ্ধির পর রূপার দামেও ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে।