ইন্টারেক্টিভ ব্রোকার্সের ২য় প্রান্তিকে রাজস্ব বেড়ে ১.৯ বিলিয়ন ডলার, গ্রাহক অ্যাকাউন্ট ৫১.৯ লাখে
গ্রাহকদের লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে উচ্চ কমিশন এবং সুদ আয় অর্জনের কথা জানিয়েছে অনলাইনভিত্তিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ইন্টারেক্টিভ ব্রোকার্স।
তবে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির ‘নিট সুদের মার্জিন’ কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। যা ইঙ্গিত দেয় যে সুদের হার হ্রাস পাওয়ায় গ্রাহকদের মোট আমানত বা ব্যালেন্স বৃদ্ধি সত্ত্বেও আয়ের হার কিছুটা মন্থর হয়েছে।
ইন্টারেক্টিভ ব্রোকার্স গ্রুপ তাদের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মূলত গ্রাহক অ্যাকাউন্ট, লেনদেনের ভলিউম এবং মার্জিন ঋণের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে প্রধান ব্যবসায়িক খাতগুলোতে এই প্রবৃদ্ধি এসেছে।
কানেকটিকাটভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি ৩০ জুন সমাপ্ত প্রান্তিকে ১.৯০ বিলিয়ন ডলার নিট রাজস্ব অর্জন করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের ($১.৪৮ বিলিয়ন) তুলনায় ২৮% বেশি। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি আয় (EPS) $০.৫১ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে $০.৬৯-এ।
প্রতিষ্ঠানটির কর-পূর্ব আয় ৩২% বেড়ে ১.৪৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং কর-পূর্ব মুনাফার মার্জিন দাঁড়িয়েছে ৭৭%-এ। জুন শেষে প্রতিষ্ঠানটির মোট সক্রিয় গ্রাহক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১.৯ লাখ (৫.১৯ মিলিয়ন), যা বার্ষিক ভিত্তিতে ৩৪% এবং প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় ৯% বেশি। একই সময়ে গ্রাহকদের মোট ইকুইটির পরিমাণ ৪০% বেড়ে ৯৩০.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
ট্রেডিং ও লেন্ডিং খাতে শীর্ষ আয়ের প্রভাব
প্রতিষ্ঠানটির কমিশন আয় ৩০% বেড়ে ৬৭৩ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা সরাসরি গ্রাহকদের ট্রেডিং বৃদ্ধির ফল। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অপশনস ট্রেডিং ১৭%, স্টক ট্রেডিং ১৪% এবং ফিউচার্স লেনদেন ২% বেড়েছে। দৈনিক গড় রেভিনিউ ট্রেড (DARTs) ৩৬% বেড়ে ৪.৮২ মিলিয়নে পৌঁছেছে।
প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহক ধরে রাখতে ও ট্রেডিং সহজ করতে চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) ও গ্রোক (Grok)-এর মতো এআই প্রযুক্তি যুক্ত করেছে, যা অপশনস ও ফিউচার্স ট্রেডারদের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করছে। এছাড়া কালশি (Kalshi), সিএমই (CME) ও ফোরকাস্টএক্স (ForecastEx)-এর মতো প্রেডিকশন মার্কেট কন্ট্রাক্টগুলোকে একটি একক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে তারা।
ইন্টারেক্টিভ ব্রোকার্সের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস ‘নিট সুদ আয়’ (Net Interest Income) ২৩% বেড়ে ১.০৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গড়ে গ্রাহক মার্জিন ঋণ এবং ক্রেডিট ব্যালেন্স বাড়ায় এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। প্রান্তিক শেষে মার্জিন ঋণের পরিমাণ ৬৭% বেড়ে ১০৮.৫ বিলিয়ন ডলার এবং গ্রাহকদের ক্রেডিট ব্যালেন্স ২৭% বেড়ে ১৮২.৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
প্রধান আর্থিক সূচকের সংক্ষিপ্ত চিত্র
| আর্থিক সূচক | ২য় প্রান্তিক ২০২৬ | ২য় প্রান্তিক ২০২৫ | বার্ষিক পরিবর্তন |
| নিট রাজস্ব (Net Revenue) | $১.৯০ বিলিয়ন \vert{} $১.৪৮ বিলিয়ন | +২৮% | |
| দিলুটেড ইপিএস (Diluted EPS) | $০.৬৯ \vert{} $০.৫১ | +৩৫% | |
| কর-পূর্ব আয় (Pretax Income) | $১.৪৬ বিলিয়ন \vert{} $১.১০ বিলিয়ন | +৩২% | |
| কর-পূর্ব মার্জিন (Pretax Margin) | ৭৭% | ৭৫% | +২ শতাংশ পয়েন্ট |
| কমিশন আয় (Commission Revenue) | $৬৭৩ মিলিয়ন \vert{} $৫১৬ মিলিয়ন | +৩০% | |
| নিট সুদ আয় (Net Interest Income) | $১.০৬ বিলিয়ন \vert{} $৮৬০ মিলিয়ন | +২৩% | |
| গ্রাহক অ্যাকাউন্ট (Customer Accounts) | ৫১.৯ লাখ | ৩৮.৭ লাখ | +৩৪% |
(উৎস: ইন্টারেক্টিভ ব্রোকার্স কর্তৃক প্রকাশিত ৩০ জুন, ২০২৬ সমাপ্ত প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত হিসাব।)
সুদের হার হ্রাসে সংকুচিত সুদের মার্জিন
মোট সুদ আয় বাড়লেও ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে লাভজনকতার হার কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। মূলধন সম্পদের বিপরীতে সুদের হার বা ‘ইয়েল্ড’ কমে যাওয়ায় নিট সুদের মার্জিন ২.০৭% থেকে কমে ১.৯৩%-এ নেমে এসেছে।
গ্রাহকদের মার্জিন ঋণের বার্ষিক ইয়েল্ড ৪.৬৭% থেকে কমে ৪.১০% হয়েছে এবং পৃথক ক্যাশ ও সিকিউরিটিজের ইয়েল্ড ৩.৮৬% থেকে কমে ৩.৩২% হয়েছে। অর্থাৎ, নিট সুদ আয়ের প্রবৃদ্ধি মূলত আমানত ও ঋণের পরিমাণ বাড়ার কারণে এসেছে, সুদের উচ্চ হারের কারণে নয়।
তবে পরিচালনা দক্ষতার কারণে কর-পূর্ব মার্জিন ৭৭% ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের (৭৫%) চেয়ে বেশি।
খুচরা ব্রোকারেজ বাজারে ঠান্ডা আমেজ
ইন্টারেক্টিভ ব্রোকার্স মূলত অভিজ্ঞ ও সক্রিয় ট্রেডার, ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সেবা প্রদান করায় বাজারের যেকোনো পরিস্থিতিতে তাদের লেনদেন সচল থাকে। তবে সাধারণ খুচরা (Retail) ব্রোকারেজ বাজারের চিত্র ভিন্ন। প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান রবিনহুড (Robinhood) তাদের প্রথম প্রান্তিকে তুলনামূলক মন্থর প্রবৃদ্ধির (১৫% নিট রাজস্ব বৃদ্ধি) কথা জানিয়েছে, যেখানে ক্রিপ্টো ট্রেডিং ভলিউম বেশ হ্রাস পেয়েছে।
রবিনহুডের স্ট্র্যাটেজিস্টদের মতে, ২০২৬ সালে মার্কিন শেয়ার বাজারে সূচকের উর্ধ্বগতি কিছুটা ধীর হওয়ায় খুচরা বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে শেয়ার কেনার প্রবণতা কমেছে।
অন্যদিকে, ইন্টারেক্টিভ ব্রোকার্সের অর্ডার প্রতি গড় কমিশন ফি $২.৬৪-এ প্রায় অপরিবর্তিত ছিল (যা আগের বছর ছিল $২.৬৫)। অর্থাৎ, কমিশন আয় বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে ব্রোকারেজ ফি বাড়ানো নয়, বরং মোট লেনদেনের সংখ্যা বৃদ্ধি মূল ভূমিকা পালন করেছে।
লভ্যাংশ অপরিবর্তিত, মুদ্রা বাস্কেটের প্রভাবে আয়ে ধাক্কা
কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ প্রতি শেয়ারে $০.০৮৭৫ লভ্যাংশ (Dividend) ঘোষণা করেছে, যা আগের প্রান্তিকের সমান। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর এই লভ্যাংশ বিতরণ করা হবে। জুন শেষে প্রতিষ্ঠানটির মোট ইকুইটির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২.৩ বিলিয়ন ডলার।
ইন্টারেক্টিভ ব্রোকার্স তাদের রিজার্ভ তহবিল ১০টি প্রধান মুদ্রার সমন্বয়ে গঠিত একটি বাস্কেটে সংরক্ষণ করে, যাকে তারা ‘GLOBAL’ বলে। চলতি প্রান্তিকে মার্কিন ডলারের বিপরীতে এই বাস্কেটের মান ০.২১% হ্রাস পাওয়ায় কোম্পানির সমন্বিত আয় থেকে ৩৬ মিলিয়ন ডলার কমেছে। (যদিও ২০২৫ সালের শুরুতে একই বাস্কেটের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ১২৭ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত আয় হয়েছিল)।
প্রান্তিক শেষে প্রতিষ্ঠানটির মোট নিট আয় অর্জিত হয়েছে ১.৩৪ বিলিয়ন ডলার। তবে হোল্ডিং কাঠামোর কারণে এর একটি বড় অংশ (১.০৩ বিলিয়ন ডলার) নন-কন্ট্রোলিং ইন্টারেস্টের অধীনে চলে যায়। ফলে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য নিট আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১২ মিলিয়ন ডলার।