Forex, News

ডলারের জয়রথে সাময়িক বিরতি; পাউন্ডের স্বস্তি, ইয়েনের সামান্য ঘুরে দাঁড়ানো

By · July 23, 2026

Meta Trader- পূর্ববর্তী সেশনের এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের সর্বোচ্চ অবস্থান অতিক্রম করার পর, বুধবার মার্কিন ডলারের দর কিছুটা কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকায় ডলারের এই দরপতন বেশ সীমিত ছিল।

এদিকে, চার দশকের সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে জাপানি ইয়েন সামান্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তোকিও বিদেশি মুদ্রার বাজারে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে—বিনিয়োগকারীদের এমন অনুমানের মধ্যে ইয়েনের এই পরিবর্তন দেখা যায়। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের আমলে অর্থনৈতিক উদ্বেগের মুখোমুখি হলেও ইতিবাচক মূল্যস্ফীতির তথ্যে ভর করে টানা দুই দিনের দরপতন থামিয়েছে ব্রিটিশ পাউন্ড।

ইস্টার্ন টাইম (ET) বিকেল ১৬:০৩-এ (জিএমটি ২০:০৩) বিশ্বের ৬টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মান নির্ধারণকারী ডলার ইনডেক্স সামান্য কমে ১০১.১৩ পয়েন্টে নেমে আসে।

ইরানি অবকাঠামোয় ট্রাম্পের হুমকিতে ফের উত্তপ্ত তেলের বাজার

গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI) এবং উৎপাদক মূল্যসূচক (PPI) মন্থর হওয়ার তথ্য প্রকাশের পর ডলার ইনডেক্স চাপের মুখে পড়েছিল। একই সময়ে, জ্বালানি স্টেশনের খুচরা বিক্রি মাসিক ভিত্তিতে হ্রাস পায়। তবে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের তথ্যে দেখা যায়, জুলাই মাসে ভোক্তা আস্থা ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এক বছর মেয়াদি মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা কমেছে।

এই সূচকগুলো ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার তাৎক্ষণিকভাবে বাড়াবে না বা মুদ্রানীতি আরও কঠোর করবে না। তবে জুনে দর কমার এই প্রবণতার নেপথ্যে মূল ভূমিকা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির পর জ্বালানি তেলের দরপতন।

পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি সংঘাত শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ফের লাফিয়ে বাড়ছে, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। টানা ১১ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথিদের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ বাব এল-মান্দেব প্রণালীতে নতুন হুমকির ফলে সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের বাজার হু-হু করে বাড়ছে। বুধবার আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দর ১১ জুনের পর প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ৯৫ ডলার অতিক্রম করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সকালে এক বার্তায় বলেন:

“এখন থেকে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে মিসাইল, রকেট, ড্রোন বা অন্য কোনো অস্ত্র দিয়ে কোনো জাহাজে আঘাত হানে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশটির রাজধানী তেহরানের পাশে বা ভেতরে থাকা যেকোনো একটি সেতু বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বোমাবর্ষণ করে ধ্বংস করে দেবে।”

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরান। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এক সামরিক সূত্রের বরাতে বলা হয়, কোনো সেতু বা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালানো হলে দেশটি মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক অবকাঠামো ও জ্বালানি সুবিধাগুলোতে পাল্টা হামলা চালাবে।

অন্যদিকে, ফিলিপাইনে আসিয়ান (ASEAN) সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনও “কূটনীতির জন্য উন্মুক্ত”, তবে ইরান আলোচনার বিষয়ে “গুরুত্বপূর্ণ মনোভাব দেখাচ্ছে না”।

পাউন্ডে সাময়িক স্বস্তি

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট পেরিয়ে অন্য প্রধান মুদ্রাগুলোর দিকে নজর দিলে দেখা যায়, ব্রিটিশ পাউন্ড পাউন্ড প্রতি $১.৩৩৭৩ ডলারে প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, মে মাসে যুক্তরাজ্যের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি যেখানে ২.৮% ছিল, তা জুনে কমে ২.৬%-এ নেমে এসেছে। এক দশকে যুক্তরাজ্যের সপ্তম নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব নেওয়ার তৃতীয় দিনে বেঞ্চমার্ক ব্রিটিশ গিল্ট ইয়েল্ড (সরকারি বন্ডের আয়) ঊর্ধ্বমুখী থাকা সত্ত্বেও পাউন্ডের দর স্থিতিশীল ছিল।

সোমবার বার্নহ্যাম তার পূর্বসূরি কিয়ার স্টারমারের অর্থসংক্রান্ত নিয়ম অনুসরণ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বর্তমানে তার নতুন মন্ত্রিসভা গঠন চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন এবং তার নিয়োগের বিষয়গুলো বাজারের ট্রেডাররা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

এজে বেল (AJ Bell)-এর বাজার গবেষণা প্রধান ড্যান কোটসওয়ার্থ বলেন:

“রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ে বন্ড বাজারে কিছুটা অস্থিরতা আসা স্বাভাবিক, কারণ তা অনিশ্চয়তা তৈরি করে। অনেকে এ বছর গিল্ট ইয়েল্ড বৃদ্ধির পেছনে বার্নহ্যামের প্রধানমন্ত্রী হওয়া এবং তার সরকারি ব্যয় ও ঋণ গ্রহণের প্রবণতাকে দায়ী করছেন। তবে বাস্তবে মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলীই গিল্ট ইয়েল্ড উস্কে দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করেছে।”

তিনি আরও যোগ করেন:

“কিয়ার স্টারমারের থেকে বার্নহ্যামের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় বন্ড বাজার শান্ত ছিল। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সরকার গঠনের পর বার্নহ্যাম অর্থসংক্রান্ত নমনীয়তার কথা বলার পর বিকালের দিকে গিল্ট ইয়েল্ড হঠাৎ বাড়ে। তিনি বিদ্যমান নীতি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিলেও কিছুটা ছাড়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তার বক্তব্য বাজারকে শুরুতে চমকে দিলেও বার্নহ্যাম দ্রুত জানান যে তিনি অর্থনীতি নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেবেন না। বন্ড বিনিয়োগকারীদের জন্য তা ছিল এক বড় স্বস্তি।”

ইয়েনের ঘুরে দাঁড়ানো, ইসিবি বৈঠকের আগে ইউরোর ঊর্ধ্বগতি

অন্যান্য মুদ্রার ক্ষেত্রে, জাপানি ইয়েন ১৬৩.১৪ মান বজায় রেখে প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। আগের সেশনে এই মুদ্রাটি ডলারের বিপরীতে ৪০ বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায় এবং এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ১৬০-এর ওপরে অবস্থান করছে। বছরের শুরুতে এই সীমানায় পৌঁছানোর পরই তোকিও কোটি কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ বাজারে ঢেলে হস্তক্ষেপ করেছিল।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকের (ECB) সুদের হার সংক্রান্ত বৈঠকের আগে ট্রেডাররা সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় ইউরোর মান ০.১% বেড়ে $১.১৪১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ফ্রাঙ্কফুর্ট তাদের মূল ঋণের সুদের হার ২.২৫%-এ অপরিবর্তিত রাখবে বলে ধারণ করা হলেও, জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করতে পারে কিনা—সেই সংকেতের জন্য ইসিবির প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দ্যের বক্তব্যের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।

আইএনজি (ING)-এর ক্রিস টার্নার বলেন:

“সুদের হারের তফাত এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তেলের চড়া দাম দেখে বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, ফেডের চেয়ে ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদ্রানীতি আরও কঠোর করার ক্ষেত্রে আগ্রাসী ভূমিকা নেবে।”

তবে তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের দলের ইসিবি সম্পর্কিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামীকালকের বৈঠক ও সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট লাগার্দ্যে যেকোনো বক্তব্যই দেন না কেন, বাজারে এর চেয়ে উচ্চ সুদের হার ধরে নেওয়া কঠিন হবে।”

ডলারের জয়রথে সাময়িক বিরতি; পাউন্ডের স্বস্তি, ইয়েনের সামান্য ঘুরে দাঁড়ানো

পূর্ববর্তী সেশনের এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের সর্বোচ্চ অবস্থান অতিক্রম করার পর, বুধবার মার্কিন ডলারের দর কিছুটা কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকায় ডলারের এই দরপতন বেশ সীমিত ছিল।

এদিকে, চার দশকের সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে জাপানি ইয়েন সামান্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তোকিও বিদেশি মুদ্রার বাজারে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে—বিনিয়োগকারীদের এমন অনুমানের মধ্যে ইয়েনের এই পরিবর্তন দেখা যায়। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের আমলে অর্থনৈতিক উদ্বেগের মুখোমুখি হলেও ইতিবাচক মূল্যস্ফীতির তথ্যে ভর করে টানা দুই দিনের দরপতন থামিয়েছে ব্রিটিশ পাউন্ড।

ইস্টার্ন টাইম (ET) বিকেল ১৬:০৩-এ (জিএমটি ২০:০৩) বিশ্বের ৬টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মান নির্ধারণকারী ডলার ইনডেক্স সামান্য কমে ১০১.১৩ পয়েন্টে নেমে আসে।

ইরানি অবকাঠামোয় ট্রাম্পের হুমকিতে ফের উত্তপ্ত তেলের বাজার

গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI) এবং উৎপাদক মূল্যসূচক (PPI) মন্থর হওয়ার তথ্য প্রকাশের পর ডলার ইনডেক্স চাপের মুখে পড়েছিল। একই সময়ে, জ্বালানি স্টেশনের খুচরা বিক্রি মাসিক ভিত্তিতে হ্রাস পায়। তবে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের তথ্যে দেখা যায়, জুলাই মাসে ভোক্তা আস্থা ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এক বছর মেয়াদি মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা কমেছে।

এই সূচকগুলো ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার তাৎক্ষণিকভাবে বাড়াবে না বা মুদ্রানীতি আরও কঠোর করবে না। তবে জুনে দর কমার এই প্রবণতার নেপথ্যে মূল ভূমিকা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির পর জ্বালানি তেলের দরপতন।

পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি সংঘাত শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ফের লাফিয়ে বাড়ছে, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। টানা ১১ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথিদের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ বাব এল-মান্দেব প্রণালীতে নতুন হুমকির ফলে সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের বাজার হু-হু করে বাড়ছে। বুধবার আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দর ১১ জুনের পর প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ৯৫ ডলার অতিক্রম করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সকালে এক বার্তায় বলেন:

“এখন থেকে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে মিসাইল, রকেট, ড্রোন বা অন্য কোনো অস্ত্র দিয়ে কোনো জাহাজে আঘাত হানে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশটির রাজধানী তেহরানের পাশে বা ভেতরে থাকা যেকোনো একটি সেতু বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বোমাবর্ষণ করে ধ্বংস করে দেবে।”

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরান। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এক সামরিক সূত্রের বরাতে বলা হয়, কোনো সেতু বা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালানো হলে দেশটি মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক অবকাঠামো ও জ্বালানি সুবিধাগুলোতে পাল্টা হামলা চালাবে।

অন্যদিকে, ফিলিপাইনে আসিয়ান (ASEAN) সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনও “কূটনীতির জন্য উন্মুক্ত”, তবে ইরান আলোচনার বিষয়ে “গুরুত্বপূর্ণ মনোভাব দেখাচ্ছে না”।

পাউন্ডে সাময়িক স্বস্তি

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট পেরিয়ে অন্য প্রধান মুদ্রাগুলোর দিকে নজর দিলে দেখা যায়, ব্রিটিশ পাউন্ড পাউন্ড প্রতি $১.৩৩৭৩ ডলারে প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, মে মাসে যুক্তরাজ্যের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি যেখানে ২.৮% ছিল, তা জুনে কমে ২.৬%-এ নেমে এসেছে। এক দশকে যুক্তরাজ্যের সপ্তম নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব নেওয়ার তৃতীয় দিনে বেঞ্চমার্ক ব্রিটিশ গিল্ট ইয়েল্ড (সরকারি বন্ডের আয়) ঊর্ধ্বমুখী থাকা সত্ত্বেও পাউন্ডের দর স্থিতিশীল ছিল।

সোমবার বার্নহ্যাম তার পূর্বসূরি কিয়ার স্টারমারের অর্থসংক্রান্ত নিয়ম অনুসরণ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বর্তমানে তার নতুন মন্ত্রিসভা গঠন চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন এবং তার নিয়োগের বিষয়গুলো বাজারের ট্রেডাররা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

এজে বেল (AJ Bell)-এর বাজার গবেষণা প্রধান ড্যান কোটসওয়ার্থ বলেন:

“রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ে বন্ড বাজারে কিছুটা অস্থিরতা আসা স্বাভাবিক, কারণ তা অনিশ্চয়তা তৈরি করে। অনেকে এ বছর গিল্ট ইয়েল্ড বৃদ্ধির পেছনে বার্নহ্যামের প্রধানমন্ত্রী হওয়া এবং তার সরকারি ব্যয় ও ঋণ গ্রহণের প্রবণতাকে দায়ী করছেন। তবে বাস্তবে মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলীই গিল্ট ইয়েল্ড উস্কে দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করেছে।”

তিনি আরও যোগ করেন:

“কিয়ার স্টারমারের থেকে বার্নহ্যামের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় বন্ড বাজার শান্ত ছিল। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সরকার গঠনের পর বার্নহ্যাম অর্থসংক্রান্ত নমনীয়তার কথা বলার পর বিকালের দিকে গিল্ট ইয়েল্ড হঠাৎ বাড়ে। তিনি বিদ্যমান নীতি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিলেও কিছুটা ছাড়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তার বক্তব্য বাজারকে শুরুতে চমকে দিলেও বার্নহ্যাম দ্রুত জানান যে তিনি অর্থনীতি নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেবেন না। বন্ড বিনিয়োগকারীদের জন্য তা ছিল এক বড় স্বস্তি।”

ইয়েনের ঘুরে দাঁড়ানো, ইসিবি বৈঠকের আগে ইউরোর ঊর্ধ্বগতি

অন্যান্য মুদ্রার ক্ষেত্রে, জাপানি ইয়েন ১৬৩.১৪ মান বজায় রেখে প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। আগের সেশনে এই মুদ্রাটি ডলারের বিপরীতে ৪০ বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায় এবং এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ১৬০-এর ওপরে অবস্থান করছে। বছরের শুরুতে এই সীমানায় পৌঁছানোর পরই তোকিও কোটি কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ বাজারে ঢেলে হস্তক্ষেপ করেছিল।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকের (ECB) সুদের হার সংক্রান্ত বৈঠকের আগে ট্রেডাররা সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় ইউরোর মান ০.১% বেড়ে $১.১৪১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ফ্রাঙ্কফুর্ট তাদের মূল ঋণের সুদের হার ২.২৫%-এ অপরিবর্তিত রাখবে বলে ধারণ করা হলেও, জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করতে পারে কিনা—সেই সংকেতের জন্য ইসিবির প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দ্যের বক্তব্যের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।

আইএনজি (ING)-এর ক্রিস টার্নার বলেন:

“সুদের হারের তফাত এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তেলের চড়া দাম দেখে বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, ফেডের চেয়ে ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক মুদ্রানীতি আরও কঠোর করার ক্ষেত্রে আগ্রাসী ভূমিকা নেবে।”

তবে তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের দলের ইসিবি সম্পর্কিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামীকালকের বৈঠক ও সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট লাগার্দ্যে যেকোনো বক্তব্যই দেন না কেন, বাজারে এর চেয়ে উচ্চ সুদের হার ধরে নেওয়া কঠিন হবে।”

Get Market Updates in Your Inbox

Free daily news and analysis, straight to your email.

Related

Forex, News

মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট: ২০২৫ সালে কোনো বাণিজ্যিক অংশীদার মুদ্রা বাজারে কারসাজি করেনি

July 24, 2026
News, Forex

আজকের পাউন্ড: ইসিবির সিদ্ধান্তের আগে মধ্যপ্রাচ্য ঝুঁকিতে শক্তিশালী ডলার, চাপে স্টাার্লিং

July 23, 2026
Forex, News

ডলারের বিপরীতে ইসরায়েলি শেকেল আরও দুর্বল হওয়ার পূর্বাভাস জেপি মরগানের

July 23, 2026

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Become Our Partner
MetaTrader
Hi there! 👋
How can we help you today?
Start Chat on WhatsApp