Meta Trader- মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার চড়া রাখতে পারে—এমন আশঙ্কা সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীদের অব্যাহত কেনাকাটায় বৃহস্পতিবার শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে স্বর্ণের বাজার।
ইস্টার্ন টাইম (ET) রাত ২১:৩২-এ (জিএমটি ০১:৩২) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের (XAU/USD) দাম ০.১% বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,১৩২.০৭ ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে গোল্ড ফিউচার্স ০.৪% সামান্য কমে দাঁড়ায় ৪,১৩৪.৫৫ ডলারে। একই সময়ে স্পট সিলভার (XAG/USD) প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ৫৯.৭১ ডলারে এবং প্লাটিনাম (XPT/USD) ০.৫% বেড়ে ১,৬৫২.৫৮ ডলারে লেনদেন হয়।
মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ
গত দুই সেশনে প্রায় ৩% মূল্যবৃদ্ধির পর বর্তমানে স্বর্ণের বাজারে এক ধরনের স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি তেলের বর্ধিত দর মূল্যস্ফীতিকে উস্কে দিতে পারে, যা পরবর্তীতে ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতিতে জটিলতা তৈরি করবে—এমন আশঙ্কার বিপরীতে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকিগুলোকে মেপে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় আলোচনায় ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে এসেছে। পাশাপাশি গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম লোহিত সাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা এই হামলার দায় স্বীকার করেছে, যা সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান রুট নিয়ে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
সরবরাহ ব্যবস্থার এই নতুন বিঘ্ন তেলের দামকে কয়েক সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। এর ফলে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের আগে বাজার তার মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত পূর্বাভাস পুনর্বিবেচনা করছে। সাধারণত, উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের মতো সুদমুক্ত সম্পদে বিনিয়োগের সুযোগ-ব্যয় (opportunity cost) বাড়িয়ে দেয় বলে এর দরপতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আগামী সপ্তাহের বৈঠকে ফেড সুদের হার আরও বাড়াবে কি না—তা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা দ্বিধাবিভক্ত। ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের অস্পষ্ট ইঙ্গিত মুদ্রানীতির ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।
সুদের হারের খড়্গ সত্ত্বেও দরপতনে স্বর্ণ কেনার হিড়িক
এএনজেড (ANZ)-এর বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, উচ্চ সুদের হারের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণে নতুন করে অবস্থান পোক্ত করছেন। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, সাম্প্রতিক দরপতন বিক্রির চাপ তৈরি না করে বরং নতুন ক্রেতাদের আকৃষ্ট করেছে।
ব্যাংকটি উল্লেখ করেছে, ফটকা ব্যবসায়ীদের (non-commercial) নেট লং পজিশন গত জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সময়ে স্বর্ণ-সমর্থিত এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডগুলোতে (ETF) নতুন করে মূলধন প্রবাহ প্রমাণ করে যে, শেয়ারবাজারের অত্যধিক মূল্যায়ন থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি এড়াতে (hedging) বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
এএনজেড আরও জানায়, জ্বালানি তেলের দর বৃদ্ধি একটি কঠোর মুদ্রানীতির সংকেত দেওয়া সত্ত্বেও স্বর্ণের বাজার যে স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে তা প্রশংসনীয়। দরপতনের সুযোগে কেনাকাটার প্রবণতা মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হারের ঐতিহ্যগত চাপকে অনেকটাই প্রশমিত করেছে।
গত জানুয়ারির রেকর্ড উচ্চতা থেকে বড় ধরনের পতনের পর এ সপ্তাহে মনস্তাত্ত্বিক ৪,০০০ ডলারের ওপরে অবস্থান ধরে রেখেছে স্বর্ণ। এখন ট্রেডাররা পর্যবেক্ষণ করছেন, এই মূল্যবান ধাতুটি ৪,২০০ ডলারের কাছাকাছি থাকা রেজিস্ট্যান্স লেভেলকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো পর্যাপ্ত গতি জোগাড় করতে পারে কি না।