Meta Trader— টানা ১৩ রাত আক্রমণের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে তাদের বিমান হামলা স্থগিত করলেও, ইরান যুদ্ধের উত্তাপ সপ্তাহান্তে লোহিত সাগর ও কাস্পিয়ান সাগর অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ওপর তাদের ঘোষিত নৌঅবরোধ এখনও পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে; তবে বিমান হামলা স্থগিতের কারণ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতে, কূটনীতিই প্রেসিডেন্টের প্রথম পছন্দ, যদিও আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখানের পরিণতি কী হতে পারে—তা ইরানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত রেখে ইরানও গত শনিবার প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা থেকে বিরত থাকে, যার ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সাময়িক যুদ্ধবিরতির আমেজ তৈরি হয়।
সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা, মার্কিন প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুদ হ্রাস, উপসাগরীয় মিত্রদের মধ্যে অসন্তোষ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার উদ্বেগে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরামকোর জিজান ও ইয়ানবু তেল স্থাপনায় হামলা চালানোর পর নতুন করে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে লোহিত সাগর অঞ্চল।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, দৈনিক ৪ লক্ষ ব্যারেল তেল শোধনে সক্ষম জিজান রিফাইনারির কাছাকাছি এলাকা থেকে ধোঁয়া উড়ছে। অন্যদিকে ইয়ানবু লক্ষ্য করে নিক্ষিপ্ত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র গ্রিক বাহিনী পরিচালিত মার্কিন প্রযুক্তির ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়।
হরমুজ প্রণালীতে ইরানি অবরোধ এড়াতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির প্রধান বিকল্প রুট হয়ে উঠেছিল এই ইয়ানবু। ফলে সেখানে নিয়মিত হুথি আক্রমণ এখন জ্বালানি ও বাণিজ্যিক নৌপথের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই করিডোরকেও মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
এ ঘটনার জবাবে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী মারিব ও আল-জাওফ অঞ্চলে অবস্থিত হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও অস্ত্রাগারে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। দুই পক্ষই নতুন করে সেনা মোতায়েন শুরু করায় ২০২২ সাল থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইয়েমেনে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।