MetaTrader: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতের কারণে টানা চার কার্যদিবস পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। এর ফলে ইউরোপ ও মার্কিন বন্ডের সুদের হার (বন্ড ইয়িল্ড) কমার যে প্রবণতা টানা তিন দিন ধরে চলছিল, তা আপাতত থেমেছে। এমন প্রেক্ষাপটে জি-১০ (G10) মুদ্রাগুলোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার কিছুটা মিশ্র অবস্থানে রয়েছে।
পিপলস ব্যাংক অব চীন (PBOC) ডলারের রেফারেন্স রেট তিন বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নির্ধারণ করেছে। অন্যদিকে, প্রত্যাশার চেয়ে কম মূল্যস্ফীতি প্রকাশের পর রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া (RBA) চলতি বছর সুদের হার আর বাড়াবে না—এমন জল্পনায় অস্ট্রেলিয়ান ডলারের দর দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
মুদ্রা বাজারের চিত্র
জি-১০ (G10) মুদ্রা
- ইউরো (EUR): তেলের দাম কমা এবং মার্কিন বন্ড ইয়িল্ড হ্রাসের প্রভাবে ইউরো আগের সর্বনিম্ন অবস্থান ($১.১৩৫৫ ডলারের নিচে) থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ১.১৪১০ ডলারে পৌঁছায়। দর বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে এটিকে ১.১৪৩০ ডলারের টেকনিক্যাল বাধা অতিক্রম করতে হবে।
- জাপানি ইয়েন (JPY): ইউএস রেট কমার কারণে ডলার-ইয়েন বিনিময় হার ১৬৩.৯৫ ইয়েন থেকে কমে ১৬৩.৬৫ ইয়েনে নেমে আসে। ১৬৩.৩০ ইয়েনের সাপোর্ট ভেঙে গেলে এটি ১৬২.৬০ ইয়েন পর্যন্ত নামতে পারে।
- পাউন্ড স্টার্লিং (GBP): ১.৩২৭৫ ডলারে নামার পর পাউন্ড কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়ে ১.৩৩১০ ডলারে উঠে আসে। তবে বাজারের আস্থা ফেরাতে ১.৩৩২০–১.৩৩৩০ ডলারের লেভেলটি পুনরুদ্ধার করা জরুরি।
- কানাডিয়ান ডলার (CAD): গ্রিনব্যাক ১.৪১৩০ ক্যাড পর্যন্ত উঠলেও পরবর্তীতে দর হারিয়ে ১.৪০৮৫ ক্যাডে স্থির হয়। ১.৪০৫০ ক্যাডের নিচে নামলে তা গত সপ্তাহের ১.৪০০০ ক্যাডের সর্বনিম্ন অবস্থানকে পুনরায় স্পর্শ করতে পারে।
- অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD): প্রত্যাশার চেয়ে কম মূল্যস্ফীতির তথ্যে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ০.৬৯৪০ ডলারের নিচে নেমে জি-১০ মুদ্রাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল পারফর্ম করেছে।
উদীয়মান বাজার (Emerging Markets)
- মেক্সিকান পেসো (MXN): মেক্সিকান পেসোর বিনিময় হার ১৭.৪২৭৫ থেকে ১৭.৪৬০০ পেসোর সংকীর্ণ সীমার মধ্যে রয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকের জিডিপি প্রবৃদ্ধির তথ্য প্রকাশের আগে বাজার সতর্ক অবস্থায় আছে।
- চীনা ইউয়ান (CNH/CNY): অফশোর ইউয়ান ৬.৭৬৫৫ থেকে ৬.৭৭৪৫ সীমার মধ্যে কেনাবেচা হচ্ছে। পিবিওসি ডলারের বেঞ্চমার্ক রেট ৬.৭৮৯৯ ইউয়ানে নির্ধারণ করেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে ডলারের বিপরীতে সর্বোচ্চ ইউয়ান মূল্য।
- ভারতীয় রুপি (INR): স্থানীয় শেয়ার বাজারের চাঙ্গা ভাব এবং বিশ্ববাজারে ডলার দুর্বল হওয়ার টানা তিন কার্যদিবস ধরে রুপির মান বেড়েছে। ডলারের বিপরীতে রুপির মান ৯৫.৪৯ রুপিতে পৌঁছেছে, যা ১০ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।
পুঁজিবাজার, বন্ড ও পণ্য বাজার
শেয়ার বাজার
এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলো কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও টেকনোলজি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের পতনে দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি (Kospi) ৬% এবং তাইওয়ানের তাইফেক্স (Taiex) ৩.৭৫% কমেছে। ইউরোপের স্টক্স ৬০০ সূচক ০.২% কমে লেনদেন হচ্ছে। মার্কিন ফিউচার সূচকগুলোতে সামান্য ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।
বন্ড বাজার
টানা তিন দিন পতনের পর ১০ বছর মেয়াদি বন্ড ইয়িল্ড স্থিতিশীল হয়েছে। ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি ইয়িল্ড ১ বেসিস পয়েন্টের বেশি বেড়ে ৪.৬২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপ ও জার্মানির বন্ড ইয়িল্ডও ২–৪ বেসিস পয়েন্ট বেড়েছে।
স্বর্ণ ও জ্বালানি তেল
- স্বর্ণ ও রূপা: সোনার বাজারে তেমন কোনো চাঙ্গা ভাব দেখা যায়নি; দর $৪০১০ থেকে $৪০৫০ ডলারের মধ্যে আটকে রয়েছে। রূপার দাম বেড়ে প্রতি আউন্স $৫৮.২৫ ডলারে পৌঁছানোর পর থমকে গেছে।
- অপরিশোধিত তেল: মার্কিন-ইরান কূটনৈতিক আলোচনার খবরে ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুড অয়েল ৭৭.৮০ ডলারে নামলেও মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সংঘাতের জেরে দর একলাফে ৮৩.৩০ ডলারে উঠে যায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি ও অর্থনৈতিক তথ্য
- ফেডারেল রিজার্ভ (Fed): আজকের এফওএমসি (FOMC) বৈঠকের সিদ্ধান্ত ঘিরে বাজারে বেশ অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে। জুনের মৃদু মূল্যস্ফীতি নীতিপ্রণেতাদের কিছুটা স্বস্তি দিলেও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও শুল্কনীতি মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি বজায় রেখেছে। ফিউচার্স মার্কেট এ বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার ৪৪ বেসিস পয়েন্ট বাড়ার সম্ভাবনা নির্দেশ করছে।
- ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (BoE): যুক্তরাজ্যের বন্ধকি ঋণ ও ক্রেডিট ডাটা প্রকাশ হলেও আগামীকালের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নীতিমালায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে সেপ্টেম্বর ও নভেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
- অস্ট্রেলিয়ার মূল্যস্ফীতি: জুনে অস্ট্রেলিয়ার বার্ষিক মূল্যস্ফীতি কমে ৩.৮%-এ নেমে এসেছে (মে মাসে ছিল ৪.০%)। এর ফলে আগস্টের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় এবং চলতি বছরে আর কোনো রেট হাইক হবে না বলেই ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।