MetaTrader: ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বিমান হামলা এবং এর জবাবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৪ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত হ্রাসের তথ্যও বাজারকে প্রভাবিত করেছে।
জিএমটি ১০:২৫ ঘটিকা পর্যন্ত ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর ফিউচারস মূল্য ব্যারেল প্রতি ৩.৭২ ডলার বা ৪.৪% বেড়ে ৮৭.৮১ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৩.৪৩ ডলার বা ৪.৩% বৃদ্ধি পেয়ে ৮২.৬৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ইউবিএস-এর বিশ্লেষক জোভান্নি স্তাউনোভো বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক হামলা এবং প্রণালীটি দিয়ে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের অনড় অবস্থান বিশ্ববাজারে তেলের দর বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।”
সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে বুধবার ইরাকে তাদের ঘাঁটিতে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, তারা অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের একটি অতর্কিত হামলা ব্যর্থ করে দিয়েছে। তবে ইরান দাবি করেছে, তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।
এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বুধবার রয়টার্সকে জানান, হরমুজ প্রণালী যৌথভাবে ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ওমানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। এর ফলে মাসের পর মাস ধরে চলা ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক স্থবিরতা নিরসনের আশা আপাতত ভেস্তে গেল।
চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালী দিয়ে হাতে গোনা কয়েকটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করতে পেরেছে। তবে লোহিত সাগরের বিকল্প পথ ‘বাব আল-মানদেব’ প্রণালী দিয়ে বুধবার ৫টি এবং মঙ্গলবার ৩৯টি জাহাজ অতিক্রম করেছে, যা গত ১৯ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। সেদিন ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছিল। এ ছাড়া লোহিত সাগরের দক্ষিণাংশ দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপের কথা ভাবছে হুথিরা।
ডিবিএস ব্যাংকের শক্তি গবেষণা প্রধান সুভ্রো সরকার বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের এ সংঘাতের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে নিকট ভবিষ্যতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৮০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করবে বলেই আমাদের ধারণা।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের শুরুতে পুনরায় কূটনৈতিক আলোচনার ইঙ্গিত দেওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে।
“এই ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণে হরমুজ প্রণালীর অবরুদ্ধ অবস্থা পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলেও তেলের সর্বনিম্ন দর ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করতে পারে,” যোগ করেন তিনি।
আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্যের বরাতে বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মঙ্গলবার জানায়, ২৪ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল কমেছে। দেশটির এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মজুতের এই তথ্য শিগগিরই প্রকাশ করার কথা রয়েছে।
তেলের বাজারকে আরও চাঙ্গা করে তুলে রয়টার্সের একটি প্রতিবেদন, যেখানে বলা হয়— ওপেক প্লাস অক্টোবর থেকে আগামী তিন মাসের জন্য তেল উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে পারে। নিজেদের স্বেচ্ছায় ঘোষিত কাটছাঁট শেষে মূল উৎপাদনে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতেই এই ভাবনা।