Meta Trader — মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে ইরান নতুন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এই হামলার ফলে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির আশা ভেস্তে গিয়ে ওই অঞ্চলের তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের এ দরবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক তেলের মজুদে বড় ধরনের ঘাটতির এক শিল্প প্রতিবেদন। পাশাপাশি, ওপেক প্লাস (OPEC+) জোট আগামী অক্টোবর থেকে পূর্বপরিকল্পিত উৎপাদন বৃদ্ধি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে পারে—এমন প্রত্যাশাও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ইস্টার্ন টাইম রাত ৮:৪৭ অনুযায়ী (জিএমটি ০০:৪৭), ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স ৪.২% বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮৭.৬২ ডলারে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে, ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুড ফিউচার্স ৪.১% বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৮২.৪৯ ডলারে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে গত তিন সেশনের প্রায় ১৫% দরপতনের পর তেলের বাজারে জোরালো প্রত্যাবর্তন ঘটল।
মধ্যপ্রাচ্যের ঝুঁকি কেন্দ্রবিন্দুতে
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরান একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর ব্যবসায়ীরা সেখানকার পরিস্থিতির দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন। যদিও ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে যে সব কটি ক্ষেপণাস্ত্রই মাঝপথে ধ্বংস করা হয়েছে, তবুও বিগত কয়েক দিনের আপেক্ষিক শান্তির পর এই হামলা নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এতে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সফলতা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।
ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের পর কূটনৈতিক সমাধানের আশা নিয়ে বাজারে যে স্বস্তি ফিরেছিল, নতুন করে তৈরি হওয়া এই সামরিক উত্তেজনা তা নস্যাৎ করে দিয়েছে।
ট্রাম্প অবশ্য পরবর্তীতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা এগোনোর ভালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করেন। তবে তেহরান যেকোনো ধরনের আলোচনা বা যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে।
অস্ট্রেলিয়া অ্যান্ড নিউজিল্যান্ড ব্যাংকিং গ্রুপ (ANZ)-এর বিশ্লেষকেরা উল্লেখ করেছেন যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের যৌথ ফ্রেমওয়ার্ক তৈরিতে ওমানের দেওয়া একটি প্রস্তাব ইরান প্রত্যাখ্যান করার পর প্রণালীটি পুনরায় উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টাও স্থবির হয়ে পড়েছে।
ব্যাংকটি আরও জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল এখনো সীমিত রয়েছে। তদুপরি, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রিয়াদ আকাশপথেই ব্যর্থ করে দিয়েছে বলে রিপোর্ট করার পর ওই অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে হুমকি বহাল রয়েছে।
তিন দিনের পতন থামাল মজুদের তথ্য ও ওপেক প্লাসের পরিকল্পনা
আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (API) আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুদ প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল কমেছে। বুধবার সরকারি আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশের আগেই মজুদের এই চিত্র বাজারে তেলের জোরালো চাহিদার বার্তা দিয়েছে।
তাছাড়া, স্বেচ্ছায় বজায় রাখা উৎপাদন ছাঁটকাট প্রত্যাহারের পরিকল্পনা শেষে, আগামী অক্টোবর থেকে পরবর্তী তিন মাসের জন্য উৎপাদন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার কথা বিবেচনা করছে ওপেক প্লাস—এমন খবরে তেলের বাজারে চাঙ্গা ভাব ফেরে।
উল্লেখ্য, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যস্থতায় উত্তেজনা কমবে—এমন আশায় ট্রেডাররা তাদের মুনাফা তুলে নেওয়ায় গত শুক্রবারের ৯৩.৫০ ডলারের কাছাকাছি উচ্চ অবস্থান থেকে ডব্লিউটিআই তেলের দাম টানা তিন দিনে প্রায় ১৫% কমেছিল। তবে বুধবারের এ পুনরুত্থান বাজারকে পুনরায় চাঙ্গা করে তুলেছে।