Meta Trader- ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক হামলা সাময়িক স্থগিত থাকায় কূটনীতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধান এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে মানদণ্ড ধরা হয় এমন ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৪ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ কমে ৮৭.৮২ ডলারে দাঁড়িয়েছে (জিএমটি ০০:৪৬ অনুযায়ী)। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৬ সেন্ট বা ০.৮ শতাংশ কমে ৮১.৯৫ ডলারে নেমে এসেছে।
দিনের লেনদেনের শুরুর দিকে উভয় আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কেই তেলের দাম ১ শতাংশ কমে এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্নে পৌঁছায়।
সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের “ইতিবাচক আলোচনা” চলছে এবং এই সংকট সমাধানের ভালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে মার্কিন হামলা আবারও শুরু হবে। পাল্টা জবাবে ইরানও একই ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, হামলা হলে তারাও প্রতিঘাত করবে।
জিএমও এবং আইজি (IG)-র আর্থিক বিশ্লেষক টনি সিকামোর গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক নোটে জানান, “উত্তেজনা হ্রাসের একটি বিকল্প পথ উন্মোচিত হওয়ায় আপাতত দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ কিছুটা থমকেছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের অবকাঠামোয় হুথি হামলার যে শঙ্কা ছিল, তাও কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো যেকোনো সময় পরিবর্তনশীল।”
সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত আফরা আল-জৌবা মন্তব্য করেন, ইয়েমেনভিত্তিক হুথি বিদ্রোহীরা হরমুজ প্রণালী ঘিরে ইরানের সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ নীতির অনুকরণে বাব এল-মানদেব প্রণালীতেও একইভাবে জাহাজ চলাচলে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান মারেক্স (Marex)-এর বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার বলেন, “হুথিদের একটা পূর্ণাঙ্গ নৌ-অবরোধ আরোপ করার মতো সামরিক সক্ষমতা রয়েছে কি না তা প্রশ্নের দাবি রাখে, বিশেষ করে যখন সৌদি আরব তাদের বিরুদ্ধে তীব্র হামলা অব্যাহত রাখবে। তবে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।”
মেয়ার আরও যোগ করেন, “জ্বালানি তেলের দাম যে এখন যা রয়েছে তার চেয়েও বেশি বাড়েনি, তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো এশিয়া বিশেষ করে বিভিন্ন অঞ্চলে বিশ্বব্যাপী চাহিদা কমে যাওয়া (Demand destruction)।”
বার্কলেস-এর বিশ্লেষকেরা সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন, “হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন এখনো বেশ থমকে রয়েছে।” তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২৪ জুলাই সমাপ্ত সপ্তাহে এই প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত এবং প্রক্রিয়াজাত তেলের নিট রপ্তানি প্রতিদিন গড়ে ২৯ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা এর আগের সপ্তাহেও ছিল প্রতিদিন গড়ে ৫৯ লাখ ব্যারেল।
অন্যান্য খবরের মধ্যে, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসোলাইনের মজুত গত সপ্তাহে কিছুটা কমেছে বলে আভাস পাওয়া গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (EIA) প্রাথমিক জরিপ অনুযায়ী ‘ডিসটিলেট’ বা প্রক্রিয়াজাত তেলের মজুত কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে।